• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

গোপালগঞ্জে ৭ প্রতারক আটক

  • প্রকাশিত ১২:৪৮ রাত আগস্ট ১০, ২০১৮
গোপালগঞ্জ
বৃহস্পতিবার প্রতারনার শিকার মানুষ অফিস ঘেপাল্গঞ্জ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

 প্রতারনার ফাঁদে ফেলে প্রায় ১ হাজার মানুষকে কর্মী করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ হাজার ৫ শ’ টাকা করে হাতিয়ে নেয় কোম্পানীটি।

গোপালগঞ্জে চাকরি দেয়ার নাম করে সহস্রাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ৭ প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে  গোপালগঞ্জ শহরের কুয়াডাঙ্গা এলাকা থেকে তাদের পুলিশ আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কোম্পানীর পরিচালক আবু সাঈদ, শেখ সাদী, শিবলী খানম, ইতি,তিথি ও সামসুন্নাহার । এদের বাড়ি গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলার বিভিন্ন গ্রামে।

প্রতারিত যুবক গোপালগঞ্জ শহরের থানাপাড়ার কাজী রিফাত আহম্মেদ, মুকসুদপুর উপজেলার বেজড়া গ্রামের আতোয়ার রহমান বলেন, প্রায় ২ মাস আগে আবু সাঈদ   গোপালগঞ্জ শহরের কুয়াডাঙ্গা এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে ওয়ার্ল্ড মিশন ২১ লিমিটেড  নামে একটি কোম্পানী খুলে বসেন। তিনি গোপালগঞ্জ পৌরসভা  থেকে এ কোম্পানীর আড়ালে মেসার্স সাঈদ ইলেকট্রিকের নামে ট্রেড লাইসেন্স নেন। মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইলেকট্রিক পণ্য বাজারজাত করার কর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ রেবকারদের প্রস্তাব দেয়। প্রতারনার ফাঁদে ফেলে প্রায় ১ হাজার মানুষকে কর্মী করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ হাজার ৫ শ’ টাকা করে হাতিয়ে নেয় কোম্পানীটি। পরে কোম্পানীটি  থেকে বলা হয় ৫ হাজার ৫ শ’ টাকার একজন সদস্য যোগাড় করে দিলে ৬ শ’ টাকা কমিশন দেয়া হবে। এছাড়া কোম্পানীর লোকজন বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথাবার্তা শুরু করেন। এতে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।  আজ বৃহস্পতিবার প্রতারনার শিকার মানুষ অফিস ঘেরাও করেন। পরে   বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কোম্পানীর পরিচালক আবু সাঈদকে মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে  গোপালগঞ্জের এএসপি সার্কেল ছানোয়ার হোসেনের  নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে গিয়ে কোম্পানীর পরিচালক সহ ৭ জনকে আটক করেন।  

কুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা সোহাগ বলেন, স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ রেবকারদের ভুল বুঝিয়ে প্রতারনার ফাঁদ পাতেন আবু সাঈদ। স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীরা এখানে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দিতো। এতে তাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছিলো। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভালো কাজ করেছে। এ প্রতারনা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, গত ফেব্রুয়ারী মাসের একই প্রতারনার দায়ে আবু সাঈদসহ ৯ জনকে ওই স্থান থেকে আটক করা হয়। সে সময় সে ৪ শ’ মানুষের কাছ থেকে ২ হাজার ৭ শ’ টাকা করে আদায় করে। প্রত্যেকের টাকা ফেরত দেয়ার পর মুচলেকা দিয়ে সে মুক্তিপায়। ফের ২ মাস আগে সে এ কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে সহ ৭ জনেকে আটক করেছে। এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ থানায় প্রতারনা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।