• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩১ রাত

যে কারণে ঢাকা বসবাসের দ্বিতীয় অযোগ্য শহর

  • প্রকাশিত ১২:২৮ দুপুর আগস্ট ১৭, ২০১৮
dhaka
বর্ষাকালে রাস্তায় পানি জমে যাওয়া এ শহরের অন্যতম বড় এক সমস্যা। ছবি- মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

“তারা (ইআইইউ) যদি এমন একটা দেশের সাথে আমাদের তুলনা করে যাদের জনসংখ্যা খুব বেশি হলে ঢাকার পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকার মত, তাহলে এটা একটা অবিচার।”

ইকোনোমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) করা তালিকায় সিরিয়ার যুদ্ধ বিধ্বস্ত শহর দামেস্কের পরেই বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহর হিসেবে দ্বিতীয় স্থান পেল ঢাকা। 

‘গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স- ২০১৮’ এর জন্য ইআইইউ পৃথিবীর ১৪০ শহরে জরিপ চালিয়েছে যেখানে ৫টি বিষয়কে তারা বিবেচ্য হিসেবে ধরেছে- স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, স্থায়ীত্ব এবং সর্বশেষ শিক্ষা।

ঢাকা এই স্কোরে ১০০ তে ৩৮ পেয়েছে, এক্ষেত্রে স্কোর ১০০ বসবাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আদর্শ অবস্থা নির্দেশ করে।  

এই তালিকায় সর্বোচ্চ জায়গায় আছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা (৯৯.১), অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নকে (৯৮.৪) এটি সাত বছর পর প্রথমবারের মত পেছনে ফেললো।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নগরায়ন ও পরিচালনা প্রোগ্রামের সদস্য সচিব ইকবাল হাবিব বলেন, “ইআইইয় ঢাকার জনবসতির ঘনত্ব ও সংস্কৃতি তাদের বিবেচনায় আনে নি।”

ইআইইউ হচ্ছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্টের একটি গবেষণাধর্মী অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান।

রেটিং-এ অবিচার

ইকবাল জানালেন, ঢাকায় প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪১ হাজার মানুষ বসবাস করে। 

তিনি বলেন, “তারা (ইআইইউ) যদি এমন একটা দেশের সাথে আমাদের তুলনা করে যাদের জনসংখ্যা খুব বেশি হলে ঢাকার পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকার মত, তাহলে এটা একটা অবিচার।”

তবে ইকবাল হাবিব ঢাকার অনেক সমস্যার কথাও উল্লেখ করলেন এবং বললেন সম্ভাবনা ও সুযোগের মধ্যে অনেক ফারাক রয়েছে, “ঢাকার জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ-বান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা ও পানি ব্যবস্থাপনায় আমরা ব্যর্থ হয়েছি।”

সাধারণ মানুষের কাছে কী অর্থ বহন করছে?

ঢাকার অনেক মানুষই এই শহরকে বসবাসের অযোগ্য মনে করে,

সরকারি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা হয়তো যুদ্ধ বিধ্বস্ত না, কিন্তু অবস্থা এর চেয়ে খুব সামান্যই ভাল”।

“সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হিসেবে বিশ্বের পাঁচটি শহরের সাথে আমরা আছি। গ্রীষ্মের সময়ে ঢাকা একটি ‘হট চেম্বার’-এ পরিণত হয়। খুব গাদাগাদি অবস্থা এখানে। আমি আমার পাশের বাসার প্রতিবেশীদের সাথে আমার জানালা দিয়েই কথা করতে পারি। এটা দমবন্ধ করা একটা অবস্থা।”

সে যা-ই হোক, এক বড় সংখ্যক মানুষের কাছে ইআইইউ এর এই র্যাংরকিং তেমন বিশেষ কোনও অর্থ বহন করে না।

রিকশাচালক জমির আলি বললেন, “ঢাকা বসবাসের যোগ্য বা অযোগ্য হোক তাতে আমার কিছু যায় আসে না, এখানে আমি টাকা আয় করতে পারি।”

“ঢাকায় থাকার অবস্থা যদি উন্নতও হয়, তবুও এর মানে এই না যে এর ফলে আমার অবস্থার কোনও পরিবর্তন পরিবর্তন হবে। আমি তখনও নোংরা বস্তিতেই থাকব, অনিরাপদ পানিই খাব আর রাস্তায় দুর্ঘটনার ভয়েও সবসময়ই থাকতে হবে।”