• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০২ রাত

কামারের দোকানে দর্শক বেশি ক্রেতা কম

  • প্রকাশিত ০১:১৬ দুপুর আগস্ট ২০, ২০১৮
হাঁপড়ের তালে আগুনের ফুলকির ছড়ালেও হতাশ কামার
কামার।ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নাটোরের কামারপাড়ায় মানুষের আনাগোনা থাকলেও খদ্দেরের অভাবে হতাশ হচ্ছেন কামার। 

নতুন খদ্দেরের আশায় দোকানের সামনে সারি সারি ধারালো অস্ত্র সাজিয়ে রাখলেও আসছে না আশানুরূপ ক্রেতা।

নতুন কাজের চেয়ে পুরাতন কাজের খদ্দের বেশি হওয়ায় তাদের এই হতাশা।

সরেজমিনে নাটোর শহরের বড়হরিশপুর কামারপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কামারের দোকানের সামনেই সাজানো রয়েছে ধারালো চাপ্পর, ছুরি, পশু জবেহ করা চাকু সহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র।

প্রতি দোকানের সামনেই কম- বেশি খদ্দের। অবিরাম চলছে কামারের হাপড়। আর হাঁপড়ের দড়ি টানার সাথে যেন পাল্লা দিয়ে চলছে অস্ত্র ধারালো করা চাকা। অস্ত্র আর চাকার ঘর্ষণে আগুনের ফুলকি ছিটকে পরছে চারদিকে। খদ্দেরদের পাশাপাশি রাস্তা দিয়ে যাওয়া অনেক পথিক থমকে দাঁড়াচ্ছেন কামার- ঘরের সামনে। মুগ্ধ হয়ে দেখছেন আগুনের ফুলকি আর হাঁপড়ের টানা। 

তবে দোকানে খদ্দেরের ভিড় থাকলেও কামারদের মুখে দেখা যায় হতাশার ছাপ।

কারণ জানতে চাইলে পলান চন্দ্র কর্মকার জানান, ঈদকে সামনে রেখে গত প্রায় ১০ দিন আগে থেকেই তারা কোরবানির পশু জবাই করা জন্য অস্ত্র তৈরি করেছেন। ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়তে দোকানের সামনে এগুলো সাজিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কদাচিৎ মিলছে খদ্দেরের দেখা। 

এক প্রশ্নের জবাবে পলান কর্মকার জানান, নতুনের চেয়ে পুরাতন খদ্দের পাওয়া যাচ্ছে বেশি। পুরাতন খদ্দেরদের চাপ্পর, ছুরি ইত্যাদি ধারালো করে খুব কম টাকা আয় হয়। অথচ এক সেট নতুন জিনিস বিক্রি করলে পাওয়া যায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। নতুন জিনিস কিনতে খদ্দেরের দেখা কম পাওয়া যাওয়ায় তাদের জিনিসগুলো সাজানোই রয়েছে দিনের পর দিন।

নাটোর শহরের মসজিদ মার্কেটের সামনে এবং স্টেশন বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে পশু জবাই করা অস্ত্র নিয়ে বসেছিলেন বিক্রেতা।

জানতে চাইলে দোকানী  মহাদেব কর্মকার জানান, গত তিনদিন থেকে তিনি দোকান সাজিয়ে বসলেও খদ্দেরের তেমন দেখা পাচ্ছেন না। দু-একজন করে খদ্দের এসে দাম জিজ্ঞেস করেই চলে যাচ্ছে।

ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন আছে জানিয়ে হতাশ কন্ঠে মহাদেব জানান, তৈরি করা অস্ত্রগুলো বিক্রি করতে না পারলে তার ক্ষতির শেষ থাকবে না।

প্রায় ৩০ বছর থেকে কর্মকার পেশায় দাবী করে তিনি জানান, এ বছরের মত কোন ঈদে খদ্দের এত কম তিনি দেখেননি।