• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০২ রাত

চ্যালেঞ্জার মালিককে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ; রুট পারমিট নেই বাসটির

  • প্রকাশিত ০৬:৫১ সন্ধ্যা আগস্ট ২৭, ২০১৮
Natore Tragedy
বাস মালিককেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে রোববার রাতে। ছবি: ট্রিবিউন ডেস্ক

ফিটনেস সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে অবৈধভাবে বাসটি চালাচ্ছিলেন বাস মালিক।

শনিবার বিকেলের সড়ক দুর্ঘটনার ঘাতক বাস চ্যালেঞ্জারের কোনও রুট পারমিট নেই বলে জানা গেছে। বিটিআরসি থেকে কেনা বাসটি দীর্ঘদিন যাবত রুট পারমিট ছাড়াই অবৈধভাবে চলাচল করছিল। এদিকে, বাস মালিককেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে রোববার রাতে।

বগুড়া পুলিশ এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামী বাসের মালিক মঞ্জু সরকারকে আটক করলেও অজ্ঞাত কারণে ৯ ঘন্টা পর তাকে ছেড়ে দেয়। তবে এজাহারে নাম না থাকলেও গ্রেফতার করা হয়েছে হেলপার আবদুস সামাদ কমলকে। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের তদবির ও মোটা অংকের বিনিময়ে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জানিয়েছেন, “এজাহারে নাম থাকলেও কাউকে গ্রেফতারে বাধ্যবাধকতা নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া শহরতলির মধ্য পালশা এলাকার আবদুর রহমান সরকারের ছেলে মঞ্জু সরকারের চ্যালেঞ্জার পরিবহন ও আগমণী পরিবহন নামের বেশ কয়েকটি বাস আছে। কয়েকবছর আগে তিনি নিলামে বিআরটিসির পরিত্যাক্ত একটি বাস কিনেন। বাসটি ভাঙ্গারি হিসেবে বিক্রি করার কথা থাকলেও মঞ্জু সরকার নতুন বডি তৈরি করে চ্যালেঞ্জার পরিবহন (ঢাকা-মেট্রো-চ-৫৬৬৯) নামে বগুড়া-কুষ্টিয়া রুটে চালান। বগুড়া বিআরটিএ কার্যালয় থেকে বাসটির রুট পারমিটও নেওয়া হয়নি। ফিটনেস সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে অবৈধভাবে বাসটি চালাচ্ছিলেন তিনি। 

বিআরটিএ বগুড়া কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সৈয়দ মেজবা উদ্দিন জানান, চ্যালেঞ্জার পরিবহনের কোন রুটপারমিট নেই, তবে ফিটনেস সার্টিফিকেট আছে। এরপরও কীভাবে এ বাস চলাচল করছে সে সম্পর্ক প্রশ্ন করলে তিনি কিছু জানাতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান এলাকায় পাবনা ছেড়ে আসা বগুড়াগামী চ্যালেঞ্জার পরিবহণের সাথে হিউম্যান হল্যারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি পরিবহনের ১৫ যাত্রী নিহত এবং ২০-২৫ জন আহত হন। নাটোরের বনপাড়া হাইওয়ে থানার এএসআই ইউসুফ আলী জানান, এ ব্যাপারে তিনি লালপুর থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। 

আসামীরা হলেন বনপাড়া হিউম্যান হল্যার মালিক সমিতির সভাপতি জাবেদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জকির হোসেন, হিউম্যান হল্যারের মালিক শাহাদত হোসেন, নিহত চালক আমির হোসেন, নিহত হেলপার (অজ্ঞাত), চ্যালেঞ্জার পরিবহণের মালিক মঞ্জু সরকার এবং চালক শামিম। 

উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শেখ ফরিদ উদ্দিন রোববার বেলা ১১টার দিকে চ্যালেঞ্জার পরিবহণের মালিক মঞ্জু সরকার ও বিকালে গোকুল পশ্চিমপাড়ার বাসা হেলপার আবদুস সামাদ কমলকে আটক করেন। এজাহারে নাম না থাকলেও হেলপার কমলকে গ্রেফতার দেখিয়ে নাটোর ডিবি পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় তাকে। 

অন্যদিকে রাত ৮টার দিকে সদর ফাঁড়ি থেকে বাস মালিক মঞ্জু সরকারকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে ইন্সপেক্টর শেখ ফরিদ উদ্দিন জানান, “উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে দু’জনকে আটক করা হয়েছিল। আবার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে চ্যালেঞ্জার পরিবহনের মালিক মঞ্জু সরকারকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।”

এদিকে হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি জিএম শামসুন নুরকে ক্লোজ করে বগুড়া কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জার পরিবহনের মালিককে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেওয়া এবং এ প্রসঙ্গে কোনও কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।