• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২০ রাত

পুলিশের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের মামলার বাদীকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার

  • প্রকাশিত ০৬:৪৮ সন্ধ্যা আগস্ট ২৯, ২০১৮
শাহ্ আলমকে (৪০)
ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার ব্ল্যাকমেইলিং-এর মামলার বাদী সেনেটারি মিস্ত্রি শাহ্ আলমকে (৪০)। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

পুলিশ সদস্যরা টাকা না দিলে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখালে শাহ্ আলমের বৃদ্ধ বাবা গবাদি পশু বিক্রি করে এসআই আবদুর রশিদের হাতে ৪৫ হাজার টাকা তুলে দেন।

বগুড়ায় তিন পুলিশসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে ব্ল্যাকমেইলিং এর মামলার বাদী সেনেটারি মিস্ত্রি শাহ্ আলমকে (৪০) ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সদর থানা পুলিশ তাকে শহরতলির বুজরুকবাড়িয়ার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। পরে বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। 

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, ভিকটিমের বাবা আবদুল বাছেদ আদালতে মামলা করেছিলেন। আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড করার পর আসামী শাহ্ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়া সদরের বুজরুকবাড়িয়া গ্রামের সিরাজ উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে শাহ্ আলম প্রামানিক পেশায় সেনেটারি মিস্ত্রি। গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় একই গ্রামের আবদুল বাছেদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম সেনেটারি কাজের জন্য তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এরপর স্বামী বাছেদ ও দক্ষিণ ধাওয়াপাড়ারইমান হোসেন সাজু মিথ্যা অভিযোগে তাকে ঘরে আটকে রাখে। পরে বাছেদের পালিত মেয়ে নাজমুনকে ডেকে এনে তাদের বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ছবি তোলা হয়। তখন শাহ্ আলম কান্নাকাটি করলে বাছেদের ছেলে শাওন তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ধর্ষণ মামলা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেবার ভয় দেখানো হয়। বাধ্য হয়ে শাহ্ আলম তার স্ত্রীকে ডেকে এনে নগদ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ ও অবশিষ্ট টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধের অঙ্গিকার করে ছাড়া পান। লোকলজ্জায় শাহ্ আলম ও তার স্ত্রী বিষয়টি গোপন রাখেন। বাছেদ ২৬ আগস্ট বাড়িতে গিয়ে শাহ্ আলমের কাছে ওই ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার কারলে বাড়িতে নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম, এসআই আবদুর রশিদ, এএসআই জাহাঙ্গীর হেসেন আসেন। পুলিশ সদস্যরা বাছেদের পক্ষ নিয়ে ওই টাকা দিতে চাপ দেন। অন্যথায় ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। তখন শাহ্ আলমের বৃদ্ধ বাবা সিরাজ প্রামানিক বাড়ির গবাদি পশু বিক্রি করে এসআই আবদুর রশিদের হাতে ৪৫ হাজার টাকা তুলে দেন। অবশিষ্ট ৩৫ হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে ফাঁড়িতে দিয়ে আসতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদা আদায় করায় শাহ্ আলম ২৭ আগস্ট সোমবার বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিন পুলিশসহ উল্লিখিত ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বিচারক শ্যামসুন্দর রায় অভিযোগ রেকর্ড করে এ ব্যাপারে তদন্ত করতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমানকে নির্দেশ দেন।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া ও এসআই শাহীন জানান, ভিকটিমের বাবা বাছেদ বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শাহ্ আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার রাতে মামলা রেকর্ড ও পরে আসামী শাহ্ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এছাড়া ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে।

শাহ্ আলমের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, আসামীরা তাদের ধর্ষণ মামলায় জেলে দেবার হুমকি দিয়ে আসছিল। ভয়ে শাহ্ আলম বাড়িছাড়া হয়েছিলেন। মঙ্গলবার রাতে ফিরলে সদর থানা পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তারা দাবি করেন, চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত তিন পুলিশসহ ৮ আসামীকে বাঁচাতেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাছেদকে দিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা করানো হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। এ প্রসঙ্গে নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।