• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৭ সকাল

জঙ্গলের ভেতরে সুলতানি আমলের মসজিদ!

  • প্রকাশিত ০৫:৫৮ সন্ধ্যা আগস্ট ৩১, ২০১৮
সুলতানি মসজিদ
মসজিদটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট, দেয়ালঘেঁষে চারপাশে রয়েছে ৪ টি ছোট মিম্বার। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

চাঁদপুরে জঙ্গলের ভেতরে পাওয়া এই পুরনো মসজিদ প্রায় ৫শ বছর আগে সুলতানি আমলে পোড়া ইট, বালি, চুনা এবং সুরকি দিয়ে নির্মিত। 

চাঁদপুরে জঙ্গলের ভেতর সন্ধান মিলেছে প্রায় ৫শ বছর আগের সুলতানি আমলের পুরনো একটি মসজিদের। সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ছোটসুন্দর গ্রামের তালুকদার বাড়ি এলাকায় এ মসজিদটির অবস্থান। বুধবার বিকেলে পুরো জঙ্গলটি পরিস্কারে মসজিদটি দৃশ্যমান হওয়ার পর বৃহস্পতিবারও শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছিল।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার প্রয়াত মুরব্বীরা জানিয়ে গিয়েছিলেন এখানে একটি পুরনো স্থাপনা আছে। কিন্তু কেউই সেখানে যেতো না। কারণ, এই মসজিদটির উপরে একটি বিশাল আকারের জির গাছ ও তার শেকড়, বাঁশঝাড়, অন্যান্য লতাপাতা এর বাইরের অংশকে ঢেকে রেখেছিল। পরে ওই বাড়ির আজিজ তালুকদার নামে একজন প্রায় ১০/১২ বছর আগে জিরগাছটি কেটে এটিকে দৃশ্যমাণ করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোন কারণে তিনি আর আগ্রহ প্রকাশ করেননি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন বলেন, এটি এতোই ভেতরে ছিল যা সম্পূর্ণ দৃশ্যমান করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে সে সময়ে এটির খবর তিনি স্থানীয় লোকজনকে জানান। কিন্তু ভয়ে কেউ এই প্রত্নতাত্ত্বিক মসজিদটিকে দৃশ্যমান ও সংরক্ষণের উদ্যোগ কেউ আর নেননি। পরবর্তীতে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা ডা. দীপু মনি এমপি বিষয়টি জানার পর এটিকে দৃশ্যমান করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। পরে আমি মসজিদটি দৃশ্যমান করার উদ্যোগ গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি, প্রায় ৫০০ বছর আগে সুলতানি আমালে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। মসজিদের ভেতরে ঢুকে দেখি মসজিদটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট। মসজিদটির দেয়ালঘেঁষে চারপাশে ৪ টি ছোট মিম্বার রয়েছে, বাইরের দৈর্ঘ্য (উত্তর-দক্ষিণ) মিম্বারসহ ১৬ ফুট এবং বাইরের প্রস্থ (পূর্ব- পশ্চিম) ১৫ ফুট। মসজিদটির ভিতরের দৈর্ঘ্য ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৭ ফুট ৩ ইঞ্চি। মসজিদটির ১টি মেহরাব রয়েছে এবং দেয়ালে ছোট ছোট কয়েকটি খোঁপ রয়েছে। মসজিদের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৩৩ ইঞ্চি। পুরো মসজিদটি পোড়া ইট, বালি, চুনা এবং সুরকি দিয়ে নির্মিত হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।

চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি ডা. দীপু মনি বলেন, '৪-৫ বছর আগে আমি কোন একটি বইতে আমাদের এলাকায় এমন একটি মসজিদ আছে সেটির খবরটি জেনেছিলাম। কিন্তু কোথায় তার অবস্থান সেটি নির্ণয় করতে পারিনি। কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বরাবরই বলে যাচ্ছিলাম আমাদের এলাকায় একটি প্রাচীন মসজিদ আছে, এর সন্ধান কর। পরবর্তীতে তারা শেষ পর্যন্ত মসজিদটিকে সনাক্ত করতে পারলো'। তিনি  আরও বলেন, মসজিদটি রক্ষায় প্রত্মতাত্মিক অধিদপ্তরের সাথে আমি কথা বলবো।

ওই গ্রামেরই সন্তান প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক রাখি রায় বলেন, জঙ্গল পরিষ্কারের আগে গত মঙ্গলবার স্থানীয় চেয়ারম্যান তাকে মসজিদ এলাকায় নিয়েছেন। তিনি বলেন, মসজিদটি সুলতানি আমলের হতে পারে। তবে এখনো কনফার্ম না। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবেদন করলে মসজিদটি সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে মসজিদটিকে দেখার জন্য প্রায় প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকেও দর্শনার্থী আসছে। খুব শীঘ্রই মসজিদটি সংরক্ষণের দাবি উঠেছে।

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শওকত ওসমানের সাথে আলাপ হলে তিনি জানান, মসজিদটি সম্পর্কে আমরা অবহিত হয়েছি। শুক্রবার এটি পরিদর্শনে আমরা যাবো। মসজিদটি রক্ষায় যা যা করণীয় তা আমরা করবো।