• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৯ সকাল

অতিরিক্ত কাজে কর্মরত অবস্থায় পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

  • প্রকাশিত ১১:০৩ সকাল সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮
অতিরিক্ত কাজে কর্মরত অবস্থায় পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু
মৃত শ্রমিকের স্বজনদের আহাজারি। রায়হানুল ইসলাম আকন্দ/ ঢাকা ট্রিবিউন

ডিজাইন টেক্স পোশাক কারখানা শ্রীপুরে বাধ্যতামূলক অতিরিক্ত কাজ করায় কর্মরত অবস্থায় শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ করেছে স্বজনরা। 

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায় ডিজাইন টেক্স পোশাক (সোয়েটার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান) কারখানার এক শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টায় কারখানায় কর্মরত অবস্থায় ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। নিহতের স্ত্রী সুমনা আক্তার স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

নিহত শ্রমিক তারিকুল ইসলাম (৩০) নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাগরা বাজার গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক মুন্সীর ছেলে। 

সহকর্মী মৃত্যুর খবরে শনিবার সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মবিরতি পালন করে। এসময় কিছু শ্রমিক উত্তেজিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে কারখানা কর্তৃপক্ষ শিল্প পুলিশের সহায়তায় নিয়ন্ত্রন করে। তবে কারখানায় শ্রমিক কর্তৃক কোনো ধরেনের আপত্তিকর ঘটনা ঘটেনি। 

কারখানার নিটিং জ্যাকার্ড (অটো) সেকশনের উৎপাদন ব্যবস্থাপক ইদ্রীছ আলী জানান, 'সে কারখানার নিটিং জ্যাকার্ড (অটো) সেকশনের শ্রমিক ছিল। শুক্রবার নাইট শিফট্ রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তার কাজ করার কথা ছিল'। 

নিহতের স্ত্রী সুমনা আক্তার জানান, ‘তারা স্বামী পৌরসভার চন্নাপাড়া এলাকার রইস উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থেকে ওই কারখানায় শ্রমিকের চাকুরী করতেন। আমার স্বামী কোনো ধরনের অসুস্থ ছিল না। কারখানা কতৃপক্ষের অবহেলায় আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এখন আমার দুই সন্তানকে কে দেখবে? আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই’। 

নিহত শ্রমিকের সহকর্মী শ্রমিক জালাল উদ্দিন জানান, ‘তারিকুল উৎপাদন ফ্লোরে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে উৎপাদন ব্যবস্থাপকের কাছে রাত সাড়ে ১১টারি দিকে ছুটি চাইলে তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি। উপরন্তু অসুস্থ শরীর নিয়ে তাকে কাজ করতে বাধ্য করানো হয়। এ অবস্থায় গভর রাত তিনটায় সে হঠাৎ ফ্লোরে পরে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়’। 

নারী শ্রমিক শেফালী বেগম জানান, ‘শ্রম আইন অনুযায়ী দৈনিক দুই ঘন্টা ওভারটাইমসহ ১০ঘন্টা ডিউটি করার কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে প্রতিদিন রাত ১২ টা, ৩টা ও  ভোর রাত পর্যন্তও জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করে। কোনো শ্রমিক অসুস্থ হলে সাথে সাথে চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও চিকিৎসা দেয় না কারখানা কর্তৃপক্ষ। জরুরী প্রয়োজনে ছুটি চাইলে ছুটি দেওয়া হয়না। অতিরিক্ত কাজ করানোর ফলে তারিকুলের মৃত্যু হয়েছে’। 

গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এনামুল হক জানান, 'নিহত শ্রমিকের লাশ কারখানার নিজস্ব খরচে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তার স্বজনদের কাছে নিহতের দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়'। 

এ ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবে না বলে কারখানার মূল ফটকে নিরাপত্তা প্রহরীদের মাধ্যেমে জানিয়ে দেয়।