• শনিবার, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৮ বিকেল

রাজধানীতে এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ

  • প্রকাশিত ০১:১০ দুপুর সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮
এডিস মশা
এডিস মশা। ফাইল ছবি।

২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত (৮ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী   ভর্তি হয়েছেন ৩৪৯১ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ১১ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন (ভর্তি) আছেন ২৪৭ জন।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসছে শত শত মানুষ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদেরকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, ঢাকায় জুন থেকে অক্টোবর মধ্যবর্তী সময়কে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বরের মৌসুম ধরা হয়। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে বলা হয়, ‘ঢাকায় প্রতি বছরের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার উপদ্রব বাড়ে। এ বছরের জানুয়ারিতে আগাম বৃষ্টি হওয়ায় মশার উপদ্রব আগে থেকেই বেড়ে গেছে’। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে ২২টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের তথ্য নিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের হিসাব রাখে সরকার। এসব হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার তরফ থেকে বলা হয়েছে যে, ‘২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত (৮ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৪৯১ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ১১ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন (ভর্তি) আছেন ২৪৭ জন। আগস্ট মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল   ১৬৬৬ জন রোগী। আর  ১ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ৮ দিনে ৫৭৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জুলাই মাস থেকে এই রোগের প্রকোপ দ্রুত বেড়েছে’

এদিকে, দিশেহারা হয়ে পড়া রোগীর আত্মীয় স্বজনেরেরা প্রতিদিনই এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেখে আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন । তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে করনীয় সম্পর্কে জানার জন্য ব্যকুল হয়ে উঠেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাসমিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মশা মারা আমাদের দায়িত্ব না। সুতরাং, যেসব এলাকার মানুষ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদেরকে সচেতন করতে আমরা সংবাদপত্রে নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিচ্ছি। গত জানুয়ারি, মে ও আগস্ট মাসের ডেঙ্গু সার্ভে রিপোর্ট ইতোমধ্যেই আমরা সিটি করপোরেশনকে দিয়েছি। এছাড়াও ম্যানেজমেন্টের জন্য আমাদের একটি গাইডলাইন আছে। এ বছর এর চতুর্থ সংস্করণ বের হয়েছে। ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের জন্য আমরা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু কিট সরবরাহ করছি। এ সপ্তাহে আমরা একটা বড় ওয়ার্কশপেরও আয়োজন করবো’। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক এ এইচ এম এনায়েত হোসেন ডেঙ্গু প্রকোপের বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে গাইডলাইন তৈরি করেছি। এটি প্রতিরোধে সম্ভাব্য সবকিছুই করছি’। 

জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার দেওয়া স্বাস্থ্যবার্তায় ডেঙ্গু ও  চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে। 


ডেঙ্গু ও  চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে করণীয়ঃ

১. আপনার ঘরে এবং আশেপাশে যে কোনও পাত্রে বা জায়গায় জমে থাকা পানি তিন দিন পরপর ফেলে দিতে হবে।

২. ব্যবহৃত পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণে পাত্রটি ঘষে ঘষে পরিষ্কার রাখতে হবে।

৩. অব্যবহৃত পানির পাত্র বিনষ্ট অথবা উল্টে রাখতে হবেযাতে পানি না জমে।

৪. দিনে অথবা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।

৫. সম্ভব হলে জানালা এবং দরজায় মশা প্রতিরোধক নেট লাগানোযাতে ঘরে মশা প্রবেশ করতে না পারে।

৬. প্রয়োজনে শরীরের (মুখমণ্ডল ব্যতীত) অনাবৃত স্থানে মশা নিবারক ক্রীম বা লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭. ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগে আতঙ্ক নয়— সময় মতো সুচিকিৎসায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ ভালো হয়।