• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ সকাল

‘গুজব’ সনাক্তে কেন্দ্র গঠনের পরিকল্পনা

  • প্রকাশিত ০১:৫৭ দুপুর সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮
সিরডাপ মিলনায়তন
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইন্টারনেটে অপপ্রচার বন্ধে ‘গুজব সনাক্তকরণ ও নিরসন কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি : সংগৃহীত।

বিএনপি-জামায়াতকে সাম্প্রদায়িক চক্র এবং তাদেরকে গুজব রটনা ও মিথ্যাচারের প্রধান কারখানা হিসেবে আখ্যায়িত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মধর্ম নিরপেক্ষতা এবং কোরআনের বাণী নিয়ে ক্রমাগত মিথ্যাচার করে যাওয়া এই সম্প্রদায়িক-জঙ্গিচক্রের কালা থাবা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে রক্ষা করতে হবে’।

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইন্টারনেটে অপপ্রচার বন্ধে ‘গুজব সনাক্তকরণ ও নিরসন কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গুজব : গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় গুজব ছড়ানোর প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। 

সামাজিক মাধ্যমগুলোকে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে গুজব সনাক্ত করতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তথ্য অধিদপ্তরকে একটি ইমিডেয়েট রেসপন্স ওয়ার্কিং টিমগঠনের নির্দেশেনা দিয়েছেন বলে জানান সভায় উপস্থিত তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

সরকার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা এই মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে গুজব থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন।এছাড়াও তারা কোনো ঘটনা ঘটার পর সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা বা তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের সরবরাহের দাবীও করেন।

সভায় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসার আগেও গুজব রটনার অপসংস্কৃতি ছিল। সাম্প্রতিককালে ইন্টারনেটে সামাজিক গণমাধ্যম আসার পরে বিষয়টি ফের নজরে এসেছে’।

এসময় তিনি গুজবের সাথে সংশ্লিষ্ট মহলের কথা তুলে ধরেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ অপরাধী, ব্ল্যাকমেইলর, বিদেশি চর ও মহল গুজব রটায়। অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তারাও ‍গুজবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কিন্তু, আমাদের দেশের একটি রাজনৈতিক মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গুজব রটনা এবং মিথ্যাচার করে থাকে’।

জঙ্গীবাদের সাথে গুজবের সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি মহল ক্রমাগত ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মিথ্যা প্ররোচনায় মানুষকে জঙ্গীবাদে উৎসাহিত করছে। যারা সাম্প্রদায়িক বোমার মালিক, তারা গুজব বোমা ফাটায় ও গুজব বোমার জন্ম দেয়। যারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে, তারাই গুজবের জন্ম দেয়’।

এসময় বিএনপি-জামায়াতকে সাম্প্রদায়িক চক্র এবং তাদেরকে গুজব রটনা ও মিথ্যাচারের প্রধান কারখানা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম, ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং কোরআনের বাণী নিয়ে ক্রমাগত মিথ্যাচার করে যাওয়া এই সম্প্রদায়িক-জঙ্গিচক্রের কালো থাবা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে রক্ষা করতে হবে’।

বিএনপির বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ তথ্য দিয়ে প্রমাণ করবেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিজেদের রক্ষা করতে চাইলে গুজব সনাক্তকরণ ও নিরসন কেন্দ্র সরকারিভাবে স্থাপন করা দরকার’। এসময় গুজব চিহ্নিতের পাশাপাশি সঠিক তথ্যের প্রবাহ অব্যাহত রাখার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে বলেও মত দেন তথ্যমন্ত্রী ইনু।

নির্বাচনের আগে গুজব ছড়াতে একটি চক্র তৎপর থাকবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে নেওয়া হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। 

গুজব ছড়ানোর সুস্পষ্ট অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের পক্ষে কেউ কেউ অবস্থান নেওয়ার তাদের কঠোর সমালোচনা করে জাসদের এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, ‘এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে, মূলধারার গণমাধ্যম এখানে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। ফেইসবুকসহ সামাজিক গণমাধ্যমের পবিত্রতা যদি রক্ষা করতে চান তাহলে গুজব রটনাকারীদের কালো ধোঁয়া থেকে রক্ষা করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। এটা গণতন্ত্রের বিপক্ষে কোনো পদক্ষেপ না’। 

এসময় তিনি গুজব প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত ছাঁকনি ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়াও, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য, পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার জন্য খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গুজব রটানো হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ফেইসবুকে যারা বেনামে পোস্ট দেয়, তারা দেশে শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু, গণমাধ্যমে শত্রু’। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘গুজব থেকে কেউ নিরাপদ নই। রাজনৈতিক দলগুলো যেমন অনিরাপদ তেমনি আপনারাও (গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান) কেউ নিরাপদ ননআপনাদের লোগো ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য নানা ধরণের অপকর্ম করা হচ্ছে’। 

প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত গুজব প্রতিরোধ কেন্দ্রের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে মন্তব্য করার সময় বলেন, ‘আমি মনে করি ইমিডেয়েট রেসপন্স ওয়ার্কিং টিম গঠন করা প্রয়োজন। এটা আগেই নির্দেশনা ছিল, আমি পিআইডিকে অনুরোধ করব আগামী ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণের একটা কাগজ অন্তত টেবিলে চাই যে এটি ২৪ ঘণ্টায় তিনটিভাগে বিভক্তে হয়ে কাজ করছে এবং তারা সব স্যোশাল মিডিয়া দেখে গুজব যাচাই করছে যাতে করে আপনারা (গণমাধ্যমকর্মীরা)একটা ফোন করেই জেনে যেতে পারবেন যে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি গুজব কিনা?’। 

এসময় তিনি, জামায়াত-শিবির তিনশরও বেশি ফেইসবুক পেইজ পরিচালনা ও অর্থায়ন করছে বলেও দাবি করেন। 

অনুষ্ঠানে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহারের সভাপতিত্বে তথ্যমন্ত্রী ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, তথ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কয়েকজন কর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মফিজুর রহমান অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।