• শুক্রবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩২ বিকেল

বিশেষ আদালতে যেতে অস্বীকৃতি খালেদা জিয়ার

  • প্রকাশিত ০৪:৪৩ বিকেল সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮
বিএনপি চেয়ারপারসন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন/ ঢাকা ট্রিবিউন

খালেদা জিয়া আদালতে আসতে পারবেন না বলে আদালতকে জানানো হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জিয়া কারাগারের অস্থায়ী আদালতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা। এদিকে, খালেদা জিয়া জামিনে থাকবেন কি-না সে বিষয়ে তার আইনজীবীদের কাছে জানতে চেয়েছেন আদালত।

বুধবার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত অস্থায়ী ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান আদালতে যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু, খালেদা জিয়া আদালতে আসতে পারবেন না বলে আদালতকে জানানো হয়। পরে আদালত মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

এর আগে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বিচারক আদালতের এজলাসে ওঠেন। এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া খালেদার জামিন বৃদ্ধির আবেদন করেন। এ ছাড়াও আদালতে তিনি একটি দরখাস্ত দেন। ওই দরখাস্তে তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত ঘোষণা করে গেজেট করা সংবিধানের পরিপন্থী ও আইনের বিরোধী। শুনানিতে তিনি আরও বলেন, “খালেদা জিয়া অসুস্থ।”

মামলার অপর আসামি জিয়াউল ইসলামের আইনজীবী আমিনুল হক এ বিচার কার্যক্রম আইন সম্মত নয় উল্লেখ করে মামলার কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, “১২ এবং ২৪ ফিটের একটি কক্ষে আদালত পরিচালিত হতে পারি কি-না তাও বিবেচনা করার প্রয়োজন। এখানে বসার কোনো জায়গা নেই, সিনিয়রদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এরূপ একটি কক্ষকে মোটেও উন্মুক্ত আদালত বলা যায় না। বিষয়টি প্রধান বিচারপতিকে জানানো হয়েছে।”

এরপর দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, “আজ মামলাটির যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ধার্য রয়েছে। এক দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করছেন, অন্যদিকে আদালত বসা নিয়ে প্রশ্ন করছেন।”

তাদের শুনানি শেষে বিচারক বলেন, “খালেদা জিয়া আসতে পারবেন না বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এ অবস্থায় খালেদা জিয়া জামিনে থাকবেন কি-না অথবা মামলাটির কার্যক্রম কীভাবে পরবর্তীতে পরিচালিত হবে, এ বিষয়ে তার আইনজীবীদের শুনানি করতে বলেন।”

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সময় আবেদন করেন। তারা বলেন, “আমাদের একটু যুক্তিসংগত সময় দেন।” তখন বিচারক বলেন, “আগামীকালকে আপনারা এ বিষয়ে শুনানি করবেন।”

প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।