• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০২ রাত

ফিল্মি কায়দায় স্ত্রীর লাশ গুম, স্বীকারক্তি যুবলীগ নেতার

  • প্রকাশিত ১১:২৯ রাত সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮
যুবলীগ নেতা
যুবলীগ নেতা ও নিহত স্ত্রী। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

স্ত্রীর লাশটি তার নিজের প্রিমিও গাড়ীতে বিছানার চাদর দিয়ে পেচিঁয়ে নিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের স্বরূপপুরে রাস্তার ধারে ফেলে তা পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে চলে যায়।

অবশেষে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায় স্বীকার করলেন সাভার উপজেলা যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি ও ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য সেলিম মন্ডল। 

বুধবার মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট লিভানা খায়ের জেসি’র আদালতে দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা আক্তার বকুল হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় সেলিম মন্ডল। জবানবন্দীতে ঘাতক সেলিম মন্ডল আদালতের স্ত্রী হত্যার সকল পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন। 

বুধবার বিকাল সোয়া চারটার দিকে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীমের কনফারেন্স রুমে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, ঘাতক সেলিম মন্ডল দ্বিতীয় স্ত্রী বকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে ঘটনার দিন ২ আগষ্ট দিবাগত রাতে ঝগড়াঝাটির সৃষ্টি করে। পরে এক পযায়ে স্ত্রীকে মারপিট করে পিটিয়ে বাসার মধ্যেই হত্যা করে সেলিম মন্ডল নিজে। হত্যার আগে তার বাসায় থাকা রুমের সিসি ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে রাখে। 

পরে তার কয়েকজন ঘনিষ্ট সহযোগী নিয়ে স্ত্রীর লাশটি তার নিজের প্রিমিও গাড়ীতে বিছানার চাদর দিয়ে পেচিঁয়ে নিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের স্বরূপপুরে রাস্তার ধারে ফেলে তা পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে চলে যায়। 

৩ আগষ্ট ভোর রাতে স্থানীয় লোকজন পুড়ে যাওয়া বিকৃতি লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। নিহতের শরীরের ৯০ ভাগ আগুনে পুড়ে গেলেও মুখ মন্ডল দেখে চেনার মতো অবস্থা ছিল।

নিহতের আত্বীয় স্বজন এসে লাশটি সনাক্ত করেন। নিহতের ভাই উজ্জল বাদী হয়ে সেলিম মন্ডলকে আসামী করে একটি হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন। 

লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকারীর বর্ণনা দিয়ে পুলিশ দেশের বিভিন্ন পুলিশ ষ্টেশনসহ সীমান্তবর্তী থানা, বিমানবন্দর সমূহে বেতার বার্তা পাঠিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিহতের ওই লাশের ছবি দেয়া হয়।

পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম আরো জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ সেলিম মন্ডলকে গ্রেফতার করে। সেখান থেকে মামলার তদন্তকারী অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন ঘাতক সেলিম মন্ডলকে সিংগাইর থানায় নিয়ে আসেন। 

ওই দিনই সেলিম মন্ডলকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রথম দফার ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর রিমান্ড চলাকালীন সময়ে হত্যার ক্লু পায়।

পরে অধিকতর জিজ্ঞাসার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের কাছে আরো ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত আরোও ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করে।

৪র্থ দিনের মাথায় আজ বুধবার  আদালতের কাছে ঘাতক সেলিম মন্ডল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দীতে দ্বিতীয় স্ত্রী বকুল হত্যার কথা স্বীকার করেন।

এদিকে, স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২০ আগস্ট সেলিমকে যুবলীগের পদ থেকে বহিস্কার করে কেন্দ্রীয় কমিটি। 

যুবলীগের ওই নেতার সাথে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালীদের সাথে যোগাযোগ থাকায় পুলিশ খুব সতর্কতার সাথে মামলার তদন্ত কাজ পরিচালনা করছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, নিহতের পরিবার থেকে জানা গেছে, আয়েশা আক্তার বকুল ছিলেন সেলিম মন্ডলের দ্বিতীয় স্ত্রী ও বকুলের ৬ষ্টতম স্বামী। বিয়ের আগে থেকেই তারা ঘনিষ্ট আত্মীয় বলে জানান পরিবারের লোকজন।