• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ সকাল

চাঁদপুরে যাত্রীবাহী লঞ্চে আগুন

  • প্রকাশিত ১০:০১ রাত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮
চাঁদপুরে যাত্রীবাহী লঞ্চে আগুন
চাঁদপুরে যাত্রীবাহী লঞ্চে আগুন। ছবি: সংগৃহীত

ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এসে প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

চাঁদপুর ঘাটে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকাগামী এমভি রফ রফ-৩ লঞ্চের ইঞ্জিন কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ৫০০ জন যাত্রী থাকা লঞ্চটি থেকে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে ১২ জন আহত হয়েছেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘাট ছাড়ার সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছেন লঞ্চটির মাস্টার মামুনুর রশিদ।  তাৎক্ষণিকভাবে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় বলেও জানান তিনি।

যাত্রীরা জানান, এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং লঞ্চের যাত্রী ও কর্মীরা সবাই এক সাথে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করলে কমপক্ষে ১২ জন আহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেলা পৌনে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানিয়েছেন অগ্নিনির্বাপক কর্মী আক্কাস আলী ও নাসিরুদ্দিন।

নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম ভূঁইয়া জানান, ক্ষতিগ্রস্ত নৌযানটির যাত্রীরা আরেকটি লঞ্চে করে ঢাকা যাত্রা করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, সকালে ইঞ্জিনরুমে রফ রফে ঢাকা যাওয়ার জন্য ইঞ্জিন চালু করলে বিকট শব্দ হয়ে আগুন ধরে যায়। পরে লঞ্চের স্টাফ ও স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। শেষে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এসে প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

 

মেসার্স রাকিব ওয়াটার ওয়েজের কোম্পানীর ম্যানেজার ফরিদ আহমেদ জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ছাড়তে গেলে হঠাৎ ধোঁয়া উঠে আগুন ধরে যায়। সাথে সাথেই যাত্রীদের নিরাপদে লঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। পরে নতুন বাজার ফায়ার ইউনিট, পুরানবাজার ফায়ার ইউনিট, নৌ ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডের পর যাত্রীদের অনেকেই ঈগল লঞ্চে চাঁদপুর ঘাট ত্যাগ করেন।

তিনি বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি- ইঞ্জিন রুমের শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ২টি ইঞ্জিন, জেনারেটর, ৫টি এসি, কেবিন জ্বলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তিনি ধারণা করছেন।” 

এদিকে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তা পরিদর্শন করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।