• শুক্রবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩২ বিকেল

৮ বছর পর সন্তানের জন্ম, দেখতে পারলেন না মা

  • প্রকাশিত ০৫:২৫ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮
পিংকি ও তার স্বামী পার্থপ্রতীম দেবনাথ রতি।
পিংকি ও তার স্বামী পার্থপ্রতীম দেবনাথ রতি। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

পিংকি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহিত কুমার নাথের পুত্রবধু।

বিয়ের আট বছর পর সন্তান আসে যশোর শহরের বাসিন্দা পিংকির (৩০) গর্ভে। অনেক চিকিৎসার পরে গর্ভে আসা সন্তান পৃথিবীর আলো দেখেছে গতকাল বৃহস্পতিবার। তবে দেখতে পারেনি মায়ের মুখ। কারণ জন্মের সময় মৃত্যু হয় পিংকির। 

বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে শহরের কুইন্স হাসপাতালে। নিহত পিংকি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহিত কুমার নাথের পুত্রবধু। তার স্বামীর নাম পার্থপ্রতীম দেবনাথ রতি।

রতির ভাই রানানাথ জানান, রতি-পিংকি দম্পতির ঘরে সন্তান জন্ম নিচ্ছিল না। অনেক চিকিৎসার পর পিংকি গর্ভধারণ করেন। তিনি গাইনি চিকিৎসক জাকির হোসেনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাক্তার জাকিরের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিংকি একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। 

সেদিন সন্ধ্যায় ডা. জাকির প্রসূতির জন্য ‘ওমেপ’ নামে একটি ইনজেকশন (ওমিপ্লাজন গ্রুপ) লেখেন। রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের নার্স জেসমিন ওই ইনজেকশনটি প্রসূতির শরীরে পুশ করেন। এর কিছুসময়ের মধ্যে মৃত্যু হয় পিংকির।

ডাক্তার জাকির দাবি করছেন, রোগীর স্বজনরা পাশের একটি ফার্মেসি থেকে ‘ওমিজিড’ নামে ইনজেকশন কেনেন; যেটি ছিল ভেজাল। এই ‘ভেজাল’ ইনজেকশন পুশ করার কারণে প্রসূতির মৃত্যু হতে পারে।

এদিকে, মোহিত নাথের পুত্রবধুর অপমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বহু লোক চড়াও হয় কুইন্স হসপিটালে। তারা দাবি করে, চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনের কারণে মৃত্যু হয়েছে পিংকির। তারা হাসপাতালটির সপ্তম তলায় উঠে আসবাবপত্র তছনছ ও জানালার গ্লাস ভাঙে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই সময় হাসপাতালে অবস্থানরত ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা যে যার মতো পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা থেকে পুলিশ হাজির হয় কুইন্স হসপিটালে। তারা উত্তেজিত লোকজনকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। 

কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল বাশার হাসপাতালটিতে ভাঙচুরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি শান্ত আছে।

রানানাথ জানান, তার সদ্যোজাত ভাইজি সুস্থ আছে। তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। পিংকির মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয় হয়েছে। কুইন্স হসপিটালের ব্যবস্থাপক মিঠু সাহা জানান, লোকজন উত্তেজিত হয়ে সামান্য ভাঙচুর করেছে। এতে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।