• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

ইলিশের মণ লাখ টাকা!

  • প্রকাশিত ০১:৪১ দুপুর সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮
ইলিশ
চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে প্রতি মণ ইলিশ এক লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন।

বড় ইলিশ দুর্লভ হওয়ার কারণেই এই আকাশছোঁয়া দাম বলে চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছের আড়ত ব্যবসায়ীদের অভিমত।

বাংলাদেশে ইলিশের সবচেয়ে বড় বাজার চাঁদপুরের বড়স্টেশন। প্রতিদিনই হাতিয়া, সন্দিপ, মনপুরা, ভোলা, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে আমদানি হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। আর ইলিশের ভরা মৌসুম হওয়ার কারণে তাজা ইলিশ কিনতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদপুরের এই বড়স্টেশন মাছঘাটে ভীড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। তবে, ভরা মৌসুমে ‘সিটি অব হিলশায়’ ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া। গত শনিবার এ বাজারে গিয়ে দেখা যায় বিক্রেতারা দুই কেজি সাইজের ইলিশের মণ (৩৭.৩২ কেজি) প্রতি  দাম হাঁকছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।     

চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ী দুলাল গাজী বলেন, ‘একটু আগে আমরা দুই কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি মণ কিনে এনেছি ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দরে। যার প্রতি কেজির দাম পড়েছে ২ হাজার ৭৭৫ টাকা। এখন আমরা এগুলো বিক্রি করছি প্রতি কেজি ২ হাজার ৮শথেকে ৩ হাজার টাকা দরে’। 

এদিকে, বড় ইলিশ দুর্লভ হওয়ার কারণেই এই আকাশছোঁয়া দাম বলে চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছের আড়ত ব্যবসায়ীদের অভিমত। এসব ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, বড়স্টেশন মাছঘাটে দুই কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ২৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকায় , ৮শ গ্রামের প্রতি কেজি ইলিশ ৮৫০-৯০০ টাকায়, ৬শ-৭শগ্রামের প্রতি কেজি ৬৫০-৭০০ টাকায় এবং ৪শ-৫শ গ্রামের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা প্রতি কেজি দরে। 

মাছঘাটের আরেক ব্যবসায়ী সাগর চাঁদপুর অঞ্চলে ইলিশ কম ধরা পড়ছে উল্লেখ করে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজকে মাছ একটু কম  আমদানি হয়েছে। কয়েকদিন আগেও মাছঘাটে প্রতিদিন এক-দেড় হাজার মণ ইলিশ আমদানি হলেও শনিবার চাঁদপুর মাছঘাটে সাড়ে ৩শমণের মত ইলিশ আমদানি হয়েছে। যার বেশিরভাগই সাগর অঞ্চল থেকে এসেছে’। এসময় তিনি ২ কেজি ওজনের একটি ইলিশ ৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন বলেও ঢাকা ট্রিবিউনকে অবহিত করেন।

এদিকে, চাঁদপুর অঞ্চলে ইলিশ কম ধরা পড়ার কারণ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমানকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, ‘অভিপ্রায়ণশীল বিচিত্র স্বভাবের ইলিশ মাছ চলাচলের জন্য যথেষ্ট গভীরতা এবং স্রোতের প্রয়োজন হয়। এই অনুকূল স্রোত এবং গভীরতা পেলে সাগর মোহনা বেয়ে তারা পদ্মা-মেঘনায় আসে। তবে, কোন ভাবে প্রতিকূলতা তৈরী হলে ইলিশ নদীতে কম ধরা পড়ে’। 

বাজারে বড় আকারের ইলিশের সহজলভ্যতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হিলশা ফিসারী ম্যানেজমেন্ট এ্যাকশন প্ল্যান (এইচএফএমএপি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দেয়া, জাটকা সংরক্ষণ এবং অভয়াশ্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে বর্তমান সময়ে শুধু ইলিশ মাছের পরিমাণই বাড়েনি। তারা বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আগের চেয়ে বড় আকারের ইলিশ ক্রমশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকায়তায় চাঁদপুরসহ উপর অঞ্চলে বড় বড় ইলিশ বাজারে দেখা যাচ্ছে’।     

এসময় তিনি প্রজননের সময়টিতে মাছ ধরার উপর আরোপিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাটি প্রতি বছর সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি বড় বড় ইলিশ পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।