• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৯ রাত

চট্টগ্রামে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার

  • প্রকাশিত ০৫:৫৮ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮
Tuhin
সন্দেহভাজন হত্যাকারী শাহনেওয়াজ মুন্না ও ইনসেটে নিহত স্কুলছাত্রী তুহিন।ছবি: ইউএনবি

নিহত তাছনিম সুলতানা তুহিন হাটহাজারী গালর্স হাই স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।

চট্টগ্রাম হাটহাজারী পৌর এলাকার শাহজালাল পাড়া ‘সালাম ম্যানশন’ থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী তাছনিম সুলতানা তুহিনের (১৩) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় ‘সালাম ম্যানশন’ ভবনের ৪র্থ তলা থেকে তুহিনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভবনটির ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া ডা. শাহজাহান সিরাজের মাদকাসক্ত ছেলে শাহনেওয়াজ মুন্নাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুন্নাদের গ্রামের বাড়ি হাটহাজারী পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায়।

ইউএনবি-এর বরাতে জানা গেছে, নিহত তাছনিম সুলতানা তুহিন ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া গড়দুয়ারা ইউনিয়নের আবুল হাসেম সারাং বাড়ীর আবু তৈয়বের কন্যা ও হাটহাজারী গালর্স হাই স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী তুহিন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় হাটহাজারী মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে তার পরিবার। পরে একই ভবনের ৪র্থ তালার বাসিন্দা মুন্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বাসা থেকে তুহিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, তুহিনকে হত্যাকারী মূল আসামি মুন্নাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। এর সাথে অন্য কেউ জড়িতে থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, স্কুলছাত্রী তুহিনকে ধরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় অথবা ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গোপন করা হয়।

নিহত তুহিনের বড় ভাইয়ের নামও মুন্না। তিনি জানান, তার বাবা-মা হজ্ব পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট শিক্ষক তুহিনকে পড়াতে আসেন। এ সময় ভবনের নিচ তলা থেকে দ্বিতীয় তলায় পড়তে যাওয়ার কথা থাকলেও সে যায়নি। পরে অনেক খোঁজাখুজি করে তাকে পাওয়া না যাওয়ায় হাটহাজারী মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তিনি।

নিহতের মামা সাইফুল ইসলাম জানান, তুহিন নিখোঁজের পর থেকে ঘাতক মুন্নার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুক্রবার রাতে মুন্নার বাবা-মা বাসায় না থাকায় তার প্রতি সন্দেহ আরও বাড়তে থাকে। পরদিন মুন্নার বাবা-মাকেও গ্রামের বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়। পুলিশও মুন্নাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদের আচরণ সন্দেহজনক হলে ‘সালাম ম্যানশন’ ভবনের ৪র্থ তলার ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে তুহিনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।