• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২০ রাত

মাদরাসার ছাত্রকে আটকে রেখে নির্যাতন, পালিয়ে বাসায়

  • প্রকাশিত ০৫:২০ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮
মাদরাসা ছাত্র সিয়াম
মাদরাসা ছাত্র সিয়াম। ছবি :

 অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আমীর হোসেন পলাতক রয়েছেন।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় কোরআন শিক্ষা মাদরাসায় মো. সিয়াম নামের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

আজ মঙ্গলবার সকালে ওই মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাসায় চলে যায় সিয়াম। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আমীর হোসেন পলাতক রয়েছেন।

সিয়ামের মামা সাগর মিয়া জানান, সিয়াম ওই মাদরাসায় হিফজুল বিভাগে পড়াশোনা করছে। আবাসিক অনাবাসিক দুটি পদ্ধতিতে মাদরাসায় পড়ানো হয়। আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনাবাসিকের শিক্ষার্থীদের মাদরাসায় রাতে থাকতে হয়। কিন্তু অনাবাসিকের খাবার সরবরাহ করা শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়ি থেকে।

শিক্ষার্থীর মা শিখা আক্তার জানান, শনিবার খাবার নিয়ে গেলে সিয়ামের সঙ্গে শিক্ষকেরা দেখা করতে দেননি। শিক্ষকরা জানান সিয়াম বাথরুমে রয়েছে। রোব ও সোমবার একই কথা বলে শিক্ষকরা তার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেননি। পরে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থী সিয়াম মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে তার মামা বাড়িতে এসে নির্যাতনের ঘটনা জানায়।

সিয়াম মুঠোফোনে জানায়, শনিবার রাতে সে বাড়ি যাওয়ার জন্য ছুটি চায়। বার বার ছুটি চাওয়ায় শিক্ষক আমীর হোসেন তাকে পায়ের পাতাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। এ কথা কাউকে জানাতেও নিষেধ করে। এরপর থেকে শ্রেণিকক্ষ ও বাথরুম ছাড়া তাকে কোথাও যেতে দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার সে পালিয়ে যায়। 

এ বিষয়ে মাদরাসার প্রধান হাফেজ সেলিম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মাদরাসায় থাকার সময় ওই শিক্ষার্থী তাকে কিছুই জানায়নি। পরে অভিভাবকদের কাছ থেকে তিনি মূল ঘটনা জেনেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাকসুদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করে শিক্ষার্থীর পরিবারকে অভিযোগ দিতে বলেছি।’