• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭ রাত

আট মাসে সড়কে নিহত ৩,২০২ আহত ৭,৮৮৩

  • প্রকাশিত ১০:৩৮ রাত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনটিতে জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি- দুটিই কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

গত আট মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ২০২ জন নিহত হবার কথা জানিয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি এনসিপিএসআরআর। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ৪১১ নারী ও ৪৫৩ শিশু রয়েছে। এসময় ৩ হাজার ১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন ৭ হাজার ৮৮৩ জন।

বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।

জাতীয় মহাসড়ক, আন্তঃজেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। তবে প্রতিবেদনটিতে জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি- দুটিই কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি এই পরিসংখ্যান  প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ জুলাই থেকে সপ্তাহব্যাপী রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা কমতে শুরু করেছে।

তাই জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ে ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৪৪ নারী ও ৬৭ শিশুসহ ৩৭৪ জন নিহত হয়। আগস্টে ৩১৪টি দুর্ঘটনায় ৫০ নারী ও ৬০ শিশুসহ নিহত হয় ৩৫৭ জন। তবে জুলাইয়ে আহতের সংখ্যা ৯০২ হলেও আগস্টে তা বেড়ে ১,০০৬ হয়েছে।

এছাড়া দুর্ঘটনা রোধসহ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা অনেক বাড়লেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, খোদ রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে বেপরোয়া গাড়ি চলাচল, ভাঙা অবকাঠামোযুক্ত রঙচটা বাসে যাত্রী পরিবহন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে লেগুনা ও ইজিবাইক চালানো, ফুটপাতের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে মহাসড়কে তিন-চাকার যানবাহন চলাচলের ঘটনা অহরহ ঘটছে।

তবে বিআরটিএ ও পুলিশের বর্তমান তৎপরতা বছরজুড়ে অব্যাহত থাকলেও নিকট ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা ও সড়কের বিশৃঙ্খলা অনেক কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় প্রতিবেদনে।

জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে ৪০৩টি দুর্ঘটনায় ৫৪ নারী ও ৩০ শিশুসহ ৪২৫ জন নিহত ও ৯৩৩ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৩ দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৪৮ শিশুসহ ৪১৩ জন নিহত ও ৯৯৫ জন আহত হয়েছেন। মার্চে ৩৭৯টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছেন যথাক্রমে ৩৮৫ ও ৯৭১ জন; নিহতের তালিকায় ৫৩ নারী ও ৭৯ শিশু রয়েছে। এপ্রিলে ৪০৮টি দুর্ঘটনায় ৫০ নারী ও ৫০ শিশুসহ ৩৮৯ জন নিহত ও ১,০৩২ জন নিহত হয়েছে। মে মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৬৩টি। এতে ৪০ নারী ও ৫১ শিশুসহ নিহত হয়েছেন ৩৮১ জন এবং আহত হয়েছেন ৮৪৬ জন। জুনে ৪২৭টি দুর্ঘটনায় ৬৭ নারী ও ৬৮ শিশুসহ ৪৭৮ জন নিহত ১,১৯৮ জন আহত হয়েছেন।