• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

প্রধান শিক্ষকের মার খেয়ে ছাত্র অজ্ঞান

  • প্রকাশিত ০১:১৮ দুপুর সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮
অজ্ঞান শিক্ষার্থী
প্রধান শিক্ষকের প্রহারে অজ্ঞান শিক্ষার্থীকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিচ্ছেন সহপাঠীরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

রিয়াজ জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ক্লাসের ফাঁকে পানি পান করতে যান তিনি। এ সময় প্রধান শিক্ষক ঐ ছাত্রকে ক্লাসের বাইরে দেখে উত্তেজিত হয়ে প্রহার করলে সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

ক্লাসের ফাঁকে পানি পান করতে যাওয়ায় বুধবার বরিশালের বাবুগঞ্জ সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার বাড়ৈ এর প্রহারে জ্ঞান হারিয়েছে একজন শিক্ষার্থী।

বাবুগঞ্জ উপজেলার বাবুগঞ্জ সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার মেকানিক্যাল বিভাগের নবম শ্রেণীর রিয়াজ নামের ওই শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। 

সহপাঠিরা আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

আহত ছাত্র রিয়াজ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মাজেদ বেপারীর ছেলে। 

রিয়াজ জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ক্লাসের ফাঁকে পানি পান করতে যান তিনি। এ সময় প্রধান শিক্ষক ঐ ছাত্রকে ক্লাসের বাইরে দেখে উত্তেজিত হয়ে প্রহার করলে সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। 

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষনিক ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। 

পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তার-উজ-জামান মৃধা মিলনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

শিক্ষার্থী নির্যাতনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। 

পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীথিকা সরকার, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম লাভু ও ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তার উজ জামান মৃধা মিলন এক জরুরী বৈঠকে বসেন। সেখানে প্রধান শিক্ষক নির্যাতনের বিষয় অস্বীকার করলেও চড় দেবার কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। 

প্রধান শিক্ষক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে শিক্ষকদের মিটিং চলাকালীন নবম শ্রেণীর ভোকেশনাল শাখার মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থীরা গোলমাল করছিল এ সময় তিনি রিয়াজ বেপারী নামে ছাত্রকে চড় দিয়েছেন। তবে নির্মম নির্যাতনের মত কোন ঘটনা ঘটেনি । 

বাবুগঞ্জ থানার ওসি দিবাকর চন্দ্র দাস বলেন, ‘ছাত্র নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে আমরা তাৎক্ষনিক বিদ্যালয়ে ছুটে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।’ 

বিদ্যালয়ে এমন তুলকালাম পরিস্থিতি ঘটলেও সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক গোলাম হোসেন ঘটনাস্থলে যাননি। গোলাম হোসেন দাবী করেন তিনি অনেক দেরিতে সংবাদ পেয়েছেন।