• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১০ সকাল

ঢাবি শিক্ষকের প্রস্তাব ফেরানোয় বাদ পড়লেন নাসরিন?

  • প্রকাশিত ১০:০১ রাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ফাইল ছবি)। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

নাসরিনকে কেন সুপারিশ করা হলো না-জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হয় নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান নাসরিন আহমাদ -এর সঙ্গে। তিনি বলেন,  এ বিষয়ে জবাব দিতে বাধ্য নন তিনি।

ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে জের ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে এক প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত নাসরিন নাহার নামের ওই প্রার্থীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ফল সবচেয়ে ভালো হওয়া সত্ত্বেও তার প্রতি কোনো আগ্রহ দেখায়নি শিক্ষক নিয়োগের জন্য গঠিত বোর্ড। 

ঢাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন নাসরিন। স্নাতকে ৩.৮৫ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৯৭ সিজিপিএ নিয়ে ওই শিক্ষাবর্ষে প্রথম হন তিনি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের জন্য মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হন নাসরিন। 

জানা গেছে, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৪ জনের মধ্যে নাসরিনই সবচেয়ে যোগ্য ছিলেন। এদিকে শিক্ষক পদে সুপারিশ পাওয়া তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথম হন। তবে তাদের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বেশি সিজিপিএ পেয়েছেন নাসরিন। 

সুপারিশ পাওয়া অন্য প্রার্থী ফারিয়া বকুলও ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। তিনি স্নাতকে তৃতীয় ও স্নাতকোত্তরে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন।   

মনোবিজ্ঞান বিভাগ সূত্রে উঠে এসেছে অন্য এক চিত্র। সূত্র জানায়, নাসরিনের নিয়োগ রুখতে নিয়োগ বোর্ডের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন ওই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক একেএম রেজাউল করিম। 

রেজাউল করিমের এক সহকর্মী ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সময় রেজাউল করিমের অধীনে থিসিস করেন নাসরিন। সেসময় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রেজাউল। নাসরিন রাজি হলে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করবেন বলেও জানান রেজাউল। 

রেজাউল করিমের ওই প্রস্তাবে বেশ অস্বস্তিতে পড়েন নাসরিন। পরে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করেন তিনি। এতে নাসরিনের ওপর চটে যান রেজাউল। নাসরিনকে ভবিষ্যতে ‘দেখে নেবেন’ বলেও হুমকি দেন। বলেন, ভালো ফল করা সত্ত্বেও নাসরিনের শিক্ষক হওয়ায় বাধা দেবেন তিনি।

তবে এ ধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অধ্যাপক রেজাউল। তিনি জানান, তার সঙ্গে নিয়োগ বোর্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। তার সম্মান ক্ষুণ্ন করতেই এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।   

মনোবিজ্ঞান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ফারিয়া বকুলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাবশালী ডিনের সম্পর্ক খুবই কাছের। এমনকি তাদের দুজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। এর আগে ফারিয়াকে নিয়োগে সুপারিশের জন্য সাবেক উপাচার্য ড. আ.আ.ম.স. আরেফিন সিদ্দিকীর কাছেও নিয়ে গিয়েছিলেন ওই ডিন। 

মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাসরিন ওয়াদুদ বলেন, তিনি নাসরিনকে নিয়োগের জন্য বলেছিলেন। এরপরও তাকে নির্বাচিত করা হয়নি। 

নাসরিনকে কেন সুপারিশ করা হলো না-জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হয় নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান নাসরিন আহমাদ -এর সঙ্গে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জবাব দিতে বাধ্য নন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি গোপনীয়। সব কিছু নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। এখানে আমার নাক গলানোর কিছু নেই। সুপারিশ সিন্ডিকেটের কাছে পৌঁছালে আমি বিষয়টি দেখবো।’