• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

প্রতিশোধ নিতে সন্তানকে হত্যা করলেন বাবা?

  • প্রকাশিত ০৬:২৫ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮
মানচিত্রে সাতক্ষীরা। ছবি: সংগৃহীত
মানচিত্রে সাতক্ষীরা। ছবি: সংগৃহীত

এলাকাবাসীর মতে, নিজের মেয়েকে হত্যা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম বলছেন তিনি।

শিশু সন্তানের হত্যার খবরে নিজের অসুস্থতা ভুলে হাসপাতালে ছুটে গেলেন এক বাবা। এরপর শিশুর নিস্তব্ধ দেহ দেখেই  জ্ঞান হারালেন তিনি।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার দেবহাটার পুস্পকাটিতে। পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে।

তার স্বজনরা জানান, পুস্পকাটি গ্রামের ফরহাদ হোসেন তার শিশু কন্যা ফারিয়াকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে ভোমরা বন্দরে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে কে বা কারা তার মাথায় সজোরে লাঠির আঘাত করে। ফরহাদ মুহুর্তেই জ্ঞান হারান। এই সুযোগে শিশু ফারিয়াকে (৪) দুর্বৃত্তরা নিকটস্থ পুকুরের পানিতে ছুড়ে ফেলে। স্থানীয়রা ফরহাদকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

এদিকে শুক্রবার সকালে কিছুটা সুস্থ হতেই ফরহাদের কাছে খবর আসে যে তার মেয়ে শিশু ফারিয়ার লাশ ভাসছে পুকুরে। এ খবর শুনে নিজের অসুস্থতার কথা ভুলে ফরহাদ দ্রুত ছুটে যান তার মেয়ের কাছে।

তবে এলাকাবাসী বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, “ফরহাদকে কেউ লাঠি দিয়ে আঘাত করেনি। এমনকি তার মেয়েকে পুকুরে ছুড়ে ফেলে হত্যার ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত নয়”। তাদের মতে, রাজনৈতিক কারণে ফরহাদের প্রতিবেশি মোকছেদ আলি এখন জেলে রয়েছে। তাকে জেলে পাঠানোর জন্য কয়েকজন লোককে সে দায়ী করে আসছিল। প্রতিশোধ নিতেই ফরহাদ মোকছেদ পরিবারের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা হাতিয়ে নিয়ে তার মেয়েকে হত্যার দায় এলাকার কয়েক যুবকের ওপর চাপাতে এই নাটক সাজিয়েছে। তারা আরও জানান ফরহাদের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

আলিপুর ইউপি যুবলীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, ফরহাদ একজন ধূর্ত লোক। সে নিজেই একটি হত্যা মামলার আসামি।

তিনি আরও জানান, ফরহাদ তার মেয়েকে হত্যার আগে মোকছেদের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা নেয়। মোকছেদ ২০১৩ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রতীকী কবর তৈরি করে দেবহাটায় ব্যাপক সহিংসতা চালায়। নিজের মেয়েকে হত্যা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম বলছে ফরহাদ। এরাই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোকছেদকে ধরিয়ে দিয়েছিল। এটি একটি সাজানো নাটক বলে দাবি করেন তিনি। 

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মান্নান আলি জানান, শিশু ফারিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি অনেকটাই রহস্যাবৃত। পানিতে ডুবে মারা যাওয়া কিংবা আঘাত করে হত্যার কোনো চিহ্নই শিশুটির দেহে নেই। এমনকি ফরহাদের দেহেও আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি। তদন্ত না করে কোনো কিছু  নির্ণয় করা কঠিন জানিয়ে, তিনি বলেন ফরহাদকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ।