• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের খেলা দেখায় ২ শিশুকে মার

  • প্রকাশিত ০২:৩৪ দুপুর সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮
ম্যাপ
ম্যাপ

ওলিদ জানায়, ‘আমি ১০ মিনিট খেলা দেখে রুমে যাওয়ার পরে হুজুর ডেকে নিয়েই বড় একটা বেত দিয়ে পিটাইতে থাকে।'

মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলায় টিভিতে বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের ক্রিকেট খেলা দেখার কারণে দুই ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেছেন এক এতিমখানার অধ্যক্ষ। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিনের খৈয়ারভাঙ্গা হাফিজিয়া এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে 

আহত দুই ছাত্রের নাম ওলিদ ও নাজমুল।  নাজমুল একই এলাকার মৃত লিটন হাওলাদারের ছেলে ও ওলিদ শিরখাড়া ইউনিয়নের কুচিয়ামারা গ্রামের মওলানা মাইনউদ্দিনের ছেলে। তারা দুজনই ওই এতিমখানার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে এতিমখানা থেকে বের হয়ে পাশের বাজারে একটি চায়ের  দোকানে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ম্যাচ দেখতে গিয়েছিল ওলিদ ও নাজমুল।  ১০ মিনিট খেলা দেখে বেডিং রুমে গেলেই এতিমখানার অধ্যক্ষ মাওলানা ওবাইদুল্লা বিন বাশার তাদের ডেকে নিয়ে যান। পরে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেতের ২০-৩০টি বাড়ি দেন। 

গতকাল শুক্রবার সকালে ওলিদ ও নাজমুলের পরিবার বিষয়টি জানলে তারা গিয়ে এতিমখানার ম্যানেজিং কমিটিসহ স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়। কমিটি বিচারের আশ্বাস দিয়ে সেদিন রাতে সিদ্ধান্ত নেয়-অধ্যক্ষকে আগামী তিন দিনের মধ্যে এতিমখানা ছেড়ে চলে যেতে হবে। এই ঘটনা পর এতিমখানা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন অধ্যক্ষ। 

আহত ছাত্র ওলিদ জানায়, ‘আমি ১০ মিনিট খেলা দেখে রুমে যাওয়ার পরে হুজুর ডেকে নিয়েই বড় একটা বেত দিয়ে পিটাইতে থাকে। ক্ষমা চাইলে আরঅ বেশি পিটাতে থাকে। আমাকে বেত দিয়ে ২০-৩০টি আঘাত করেছে। আমার দুই হাতে, পায়ে, পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেছে।’

ওলিদের বাবা মওলানা মাইনউদ্দিন জানান, ‘একজন শিক্ষক শাসন করতে পারে। আমিও একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। আমার মাদ্রাস অনেক দূরে হওয়ায় এখানে রেখে পড়াশুনা করতে দিয়েছি। তাই বলে এভাবে আঘাত করবে, এটা কোনোভাবেই ঠিক না। আমার এর বিচার চাই।’ 

খৈয়ারভাঙ্গা হাফেজিয়া এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিরুল হক জানান, ‘আমাদের কাছে ওলিদের পরিবার অধ্যক্ষের বিচার চেয়েছে। আমরা ম্যানেজিং কমিটির সকলকে নিয়ে শুক্রবার রাতে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অধ্যক্ষ এতিমখানার সকল হিসাব বুঝিয়ে তিন দিনের মধ্যে এখান থেকে তাকে বিদায় দেওয়া হবে। আর এই সিদ্ধান্ত না মানলে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’

খৈয়ারভাঙ্গা হাফেজিয়া এতিমখানার অধ্যক্ষ মওলানা ওবাইদুল্লা বিন বাশার ফোনে নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘ওই দুই ছাত্রকে এক আরবি শিক্ষক এশার নামাজ পড়তে নিয়ে গেলে তারা পিছন থেকে পালিয়ে একটি দোকানে গিয়ে টিভি দেখে। তাই তারা আসার পর তাদের শাসন করেছি। তবে শাসনটা একটু বেশি হয়ে গেছে। আমি আমরা ভুল স্বীকার করছি।’

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ রকম ঘটনা হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। তাছাড়া ভুক্তভোগীর পরিবার আমাদের কাছে অভিযোগ করলে মামলা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’