• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

‘ফোরটি’ ও ‘ফোরটিন’ এর পার্থক্য বোঝেনা কোন প্রাথমিক শিক্ষার্থী, দাবী সচিবের

  • প্রকাশিত ০৩:৫১ বিকেল সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াসউদ্দিন আহমেদ প্রাথমিকের শতভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ‘ফোরটি’ ও ‘ফোরটিন’ এর পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন। ছবি: সংগৃহীত।

‘প্রাথমিকের কারিকুলাম খুব কঠিন, বিশেষ করে ৪র্থ এবং ৫ম শ্রেণির অংক খুবই কঠিন। শিক্ষকরাই অনেক কিছু বোঝে না, শিক্ষার্থীদের বোঝাবেন কিভাবে?’।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াসউদ্দিন আহমেদপ্রাথমিকের শতভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ফোরটি ও ফোরটিন এর পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে না বলে দাবী করেছেন। গত শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে যোগাযোগ ও সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা বিভিন্ন জেলার ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ওপর নিরীক্ষা চালিয়েছি। নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি ও বাংলায় নিজের নাম ও ঠিকানা লিখতে পারে না। সবচেয়ে হতাশার জায়গা হলো, শতভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ফোরটি ও ফোরটিনের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারেনি’।

এসময় তিনি প্রাথমিক স্তরের প্রায় ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি ও বাংলায় নিজের নাম-ঠিকানা লিখতে পারে না বলেও দাবী করেন। 

এর আগে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রাথমিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষকরা শিক্ষার মান উন্নয়নে তাদের বিভিন্ন দাবী ও পরামর্শ উপস্থাপন করেন। এসময় তাদের একজন বলেন, ‘প্রাথমিকের কারিকুলাম খুব কঠিনবিশেষ করে ৪র্থ এবং ৫ম শ্রেণির অংক খুবই কঠিন। শিক্ষকরাই অনেক কিছু বোঝে না, শিক্ষার্থীদের বোঝাবেন কিভাবে?’।

এরপর আগত শিক্ষা কর্মকর্তারা কারিকুলামের সহজীকরণ, শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ধরনের বোনাস ব্যবস্থা চালু, গ্রেডিং পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ণসহ প্রাথমিকের প্রশাসনিক পদগুলোতে শিক্ষা ক্যাডার নিয়োগ করার দাবী তুলেন।    

এই দাবীগুলোর প্রেক্ষিতে কর্মশালার প্রধান অতিথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বলেন, ‘শিক্ষকদের বৈষম্য,পদোন্নতি ও নিয়োগবিধি সমস্যাগুলো আমলে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দ্রুত এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে’। 

মানসম্মত শিক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের নিজেদের কাজে অবহেলার অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরও ভালো শিক্ষাদান সম্ভব হলেও নির্দেশদাতা কর্মকর্তাদের অবহেলায় তা সম্ভব হচ্ছে না। মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপর প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়টি নির্ভর করছে। শিক্ষকরাই কেবলমাত্র পারে শিক্ষার্থীদেরকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে’। 

এসময় মন্ত্রী  প্রাথমিকের কারিকুলাম দেখে যদি শিক্ষকরাই ভয় পাচ্ছেন তাহলে শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরও শোচনীয় হবে বলেও মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন ডিপিইর মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল। তিনি তার বক্তব্যে কারিকুলাম নিয়ে করা অভিযোগগুলো বিবেচনা করা হবে বলে উপস্থিত শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেন।

সূত্রবাংলা ট্রিবিউন।