• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩১ রাত

২০১৬ সালে মদ্যপানে দেশে ৩ হাজার লোকের মৃত্যু

  • প্রকাশিত ০৩:৩৭ বিকেল সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

রাজধানীতে সরকারের অনুমোদিত কিছু ওয়্যার হাউজলাইসেন্স কৃত পানশালা ছাড়াও তারকা হোটেলগুলো থেকে মদ ক্রয় করে থাকেন ক্রেতারা। ওয়্যার হাউজ থেকে তারা তুলনামূলক কম দামে বিদেশী মদ সংগ্রহ করে থাকেন। 

বাংলাদেশে মদ সেবনের কারণে ২০১৬ সালে অন্তত তিন হাজার মানুষ মারা গেছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিবিসির একটি খবরে এইসব তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। 

উল্লিখিত তিন হাজারের মধ্যে দুই হাজার মানুষ মদ্যপানজনিত লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আর ক্যান্সার ও মদ্যপানের পর ড্রাইভিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক হাজার মানুষের।    

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঐ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মদ বিক্রি ও সেবন বিষয়ক বিভিন্ন আইন প্রচলিত হলেও তা প্রয়োগ কিংবা পর্যবেক্ষণের তেমন উদ্যোগ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তবে প্রতিবেদনে এমন কথা লেখা হলেও ঢাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অন্য কথা বলছেন। তাদের দাবী অবৈধ মদ বিক্রি কিংবা সেবনের বিরুদ্ধে তারা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন এবং নিচ্ছেন।  

এসব কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, রাজধানীতে সরকারের অনুমোদিত কিছু ওয়্যার হাউজ, লাইসেন্স কৃত পানশালা ছাড়াও তারকা হোটেলগুলো থেকে মদ ক্রয় করে থাকেন ক্রেতারা। ওয়্যার হাউজ থেকে তারা তুলনামূলক কম দামে বিদেশী মদ সংগ্রহ করে থাকেন। এর বাইরে পাওয়া যায় দেশীয় কোম্পানির মদ। তাছাড়া আছে অঞ্চলভিত্তিক কিছু মদ, যেমন:  বাংলা মদচুদোচুয়ানি, মহুয়া, এলাচি প্রভৃতি।  

তবে, অঞ্চলভিত্তিক ভিত্তিক এইসব মদ পানের নামে স্পিরিট সেবনে মৃত্যুর খবর প্রায়শই গণমাধ্যমের খবরে আসে। অন্যদিকে, চোলাই মদ সেবনেও অনেক মৃত্যু বা দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে।        

এ প্রসঙ্গে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা সাথে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে মাদক প্রতিরোধে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুলিশের ওপরই নির্ভর করতে হয় আমাদের’। এসময় তিনি যারা মদ সেবন করেন তাদের কারও কারও লাইসেন্স থাকলেও অধিকাংশেরই মদ কেনার কোনো অনুমতি নেই বলেও উল্লেখ করেন। 

তবে কর্মকর্তারা বলছেন যে, দেশজুড়ে বিদেশী মদের ক্ষেত্রে কিছুটা কড়াকড়ি সম্ভব হলেও দেশীয় ভাবে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি মদ প্রতিরোধে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। তবে এর কারণ সম্পর্কে তাদের কেউ আলোকপাত করতে পারেননি। 

এদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন ক্লাব ও পানশালায় অভিযান চালিয়ে মদ বাজেয়াপ্তের খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে আসলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই সীমিত বলে মত সংশিষ্ট মহলের।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের শূন্য দশমিক আট শতাংশ মানুষ মদ পান করে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও, বাংলাদেশে চাইলেই যেখানে সেখানে মদ বিক্রি করা যায়না, এমনকি, মদ সেবনেও বিধিনিষেধ আছে। বিয়ার, ওয়াইন, হুইস্কি কিংবা ভদকার মতো মদের ওপর উচ্চ হারে শুল্কের বিধান আছে। তবুও এখানে অবাধে চলে মদের বেচাকেনা।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মদ সেবনের ক্ষতিকর প্রভাবে প্রতিবছর মারা যায় প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ এবং এর ক্ষতিকর প্রভাবে দুশো ধরনের রোগ সৃষ্টি হয়। 

সূত্রবিবিসি।