• বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২২ রাত

জামায়াতকে নিয়েই রংপুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি বিএনপির

  • প্রকাশিত ০৫:২৪ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮
ম্যাপ
ম্যাপ

আগামী নির্বাচনে জামায়াত অংশ নেবে সেটা শতভাগ নিশ্চিত বলে জানান গোলাম রব্বানী। আর বিএনপিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে বলেও জানান তিনি।

রংপুরে বিএনপি ও জামায়াত ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে দল দুটি নিজেদের মধ্যে সিট ভাগাভাগি করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। 

দলদুটির বিভিন্ন নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে দুটি আসন জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে বেশ জোরেশোরেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে জামায়াত। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীরাও প্রচারণার পাশাপাশি ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করছে। 

বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে বলে দলের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

বিএনপি ও জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতা যৌথভাবে নির্বাচন করা এবং দুদলের মধ্যে সিট ভাগাভাগির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিবেদককে। অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে-রংপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে রংপুর-১ ও রংপুর-৫ আসন বিএনপি জামায়াতকে ছেড়ে দিয়েছে। এ দুটো আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না। বাকি চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচন করবে। 

নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করা আসনে বিএনপি ও জামায়াত পরষ্পরকে সমর্থন দেবে এবং প্রচারণায় অংশ নেবে বলে জানা গেছে। 

রংপুর-৫ আসনটি মিঠাপুকুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনটি বিএনপি জামায়াতকে ছেড়ে দিয়েছে বলে খবর মিলেছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী। ইতোমধ্যে তিনি ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করছেন বলে জানা গেছে। 

বিষয়টি জামায়াত প্রার্থী গোলাম রব্বানী ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দলের হাইকমান্ড তাকে দলের ও জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত করায় তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে যেহেতু জামায়াতের এখন কোনো নিবন্ধন নেই সে কারণে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। বিএনপির সব নেতাকর্মী তার পক্ষে কাজ করছেন। 

অন্যদিকে রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনটি বিএনপি জামায়াতকে ছাড় দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন অধ্যাক্ষ আবদুল গনি। এরই মধ্যে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওয়াহিদুজ্জামান মাবু জানান, এ আসনে তাদের দলের কেউ নির্বাচন করবেন না। এখানে জামায়াত নির্বাচন করবে। জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বলেও স্বীকার করেন তিনি। 

এদিকে রংপুর সদর ৩ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন সম্প্রতি হয়ে যাওয়া রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা। তিনি মহানগর বিএনপির সহসভাপতি। তিনিও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। 

বিএনপি নেতা কাওছার জামান বাবলা জানান, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে এটা ৯০ ভাগ নিশ্চিত। দলের হাইকমান্ড তাকে রংপুর সদর-৩ আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত করায় তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। 

এদিকে রংপুর-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি নির্বাচনী প্রচারণা অনেক আগে থেকে শুরু করে দিয়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকা পীরগজ্ঞের ১০০’র বেশী ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

এদিকে জামায়াতের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তারা দলগতভাবে বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করবেন এটা নিশ্চিত। এ নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই। ফলে দুটি আসনে জামাতের নির্বাচন করতে ২০ দলীয় জোট থেকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। তারা আরও একটি আসন চেয়েছেন। সেটি হচ্ছে রংপুর ৪ আসন। এ আসনে তাদের দলের প্রার্থী আযম খান। 

তবে রংপুর জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারী গোলাম রব্বানী জানান, তারা রংপুর-১ , ৪ ও ৫ আসনে নির্বাচন করতে সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে এবং তাদের সঙ্গে জামায়াতও থাকবে। আমরা বিএনপির সাথেই আছি এবং থাকবো।’ 

আগামী নির্বাচনে জামায়াত অংশ নেবে সেটা শতভাগ নিশ্চিত বলে জানান গোলাম রব্বানী। আর বিএনপিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে বলেও জানান তিনি। 

রংপুর-১ আসনে জামায়াতের আবদুল গনি, রংপুর-২ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আলী অথবা পরিতোষ চক্রবর্তী, রংপুর-৩ আসনে বিএনপির কাওছার জামান বাবলা, রংপুর ৪ আসনে বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা, ৫ আসনে জামায়াতের গোলাম রব্বানী ও ৬ আসনে বিএনপির সাইফুল ইসলাম প্রার্থী হচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দুই দলের নেতারা।