• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৫ সকাল

দোকানির মাথা ফাটানোয় ঢাবির দুই ছাত্রলীগ নেতার বহিষ্কার সুপারিশ

  • প্রকাশিত ০৫:২৮ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অভিযোগের ঘটনা স্বীকারক্তি দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আমির হামজা বলেন, ‘ওষুধ কিনতে গেলে ওই দোকান কর্মচারী গালি দিয়েছে, তাই তাকে দুটি থাপ্পর দেওয়া হয়েছে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ডিএমসি) হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী ওষুধের দোকানে কর্মচারীর মাথা ফাটানো ও মালিককে লাঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে। 

রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘটা এই ঘটনার অভিযুক্ত শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের উপ-স্কুল বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হাসান ঝন্টুকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের জন্যও সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় এই দুই ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। রবিবার রাতে স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। 

দোকান মালিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে ওই দোকানে ওষুধ কেনার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন আমির হামজাসহ কয়েকজন। তবে ওষুধগুলো না থাকায় দোকানের ওই কর্মচারী তাদের অন্য দোকান থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে বলেন। তখন ওই শুভ নামের কর্মচারীকে ওষুধ এনে দিতে বলেন অভিযুক্ত নেতা। কিন্তু রাজি না হওয়ায় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে লোহার পাইপ দিয়ে শুভর মাথায় আঘাত করে ফাটিয়ে দেন হামজা। শুভকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে দোকান মালিক মো. শহীদুর নিজেও ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ তার।  

অভিযোগের ঘটনা স্বীকারক্তি দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আমির হামজা বলেন, ‘ওষুধ কিনতে গেলে ওই দোকান কর্মচারী গালি দিয়েছে, তাই তাকে দুটি থাপ্পর দেওয়া হয়েছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলা শেষে দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তালা খোলানোর ব্যবস্থা করেন এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেছেন, ‘এটা তো স্পষ্ট, যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবো। আপনি এ ব্যাপারে সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন।’ তবে ছাত্রলীগ সভাপতিকে ফোনে পাওয়া যায়নি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি।