• বুধবার, এপ্রিল ০১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ রাত

ভারতে বিদ্যুৎ রফতানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • প্রকাশিত ০৮:৫৩ রাত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮
sylhet
বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির পঞ্চদশ সভা সিলেটে মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া এবং যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে দুই দেশের গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি পরীক্ষা করে দেখবে।

বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির পঞ্চদশ সভা মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বিরাজমান বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস। সিলেটের একটি হোটেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পাশাপাশি তাদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো ভারতে যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চায় বাংলাদেশ।  

সভায় ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া এবং যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে দুই দেশের গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি পরীক্ষা করে দেখবে। 

ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন অনলাইন পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়। দুই দেশের মধ্যে তাই বিদ্যুৎ আমদানি রফতানির বিষয়ে তারা একমত। এখন টেকনিক্যাল কমিটি খতিয়ে দেখবে।’

তিনি বলেন, ‘গরমের সময় বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি থাকলেও শীতকালে অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে থাকে। বিশেষ করে সরকারিগুলো। কারণ বেসরকারিগুলো বসিয়ে রাখলে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়। এসময় ভারতে বিদ্যুৎ রফতানি করতে পারে বাংলাদেশ।’ 

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমবার যখন বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করেছিল তখন বাংলাদেশকে কোনও কর দিতে হয়নি। পরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আমদানি বৃদ্ধি করলে ভারত করারোপ করে। তখন থেকেই বাংলাদেশ এর বিরোধিতা করে আসছিল। বৈঠকে কর প্রত্যাহারের বিষয়টি উত্থাপন করা হলে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনা করে কর অব্যহতির বিষয়ে একমত হন।

দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আহমদ কায়কাউস জানান, বছরে দু’বার বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সভা হয়ে থাকে। মঙ্গলবারের সভায়  বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন আহমদ কায়কাউস এবং ভারতের পক্ষে সেদেশের বিদ্যুৎ সচিব অজয় কুমার ভাল্লা নেতৃত্ব দেন।

আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘এ সভায় বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত পাওয়ার প্লান্ট, বিদ্যুৎখাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা, বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে সকল ধরনের সিডি ট্যাক্স ও ভ্যাট থেকে অব্যাহতি প্রদান, জিএমআর কর্তৃক নেপালে উৎপাদিত জল বিদ্যুৎ ভারতের এনভিভিএন এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আমদানি, ভুটানের হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টে বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের যৌথ বিনিয়োগ ও এই প্রজেক্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আমদানিসহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার বিষয়সমূহ বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে।’

এছাড়া রামপালে বাস্তবায়নহীন ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রি সুপার থারমাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ ও বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলেও যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।