• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২০ রাত

গ্রামবাসীর ওপর নির্যাতন, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

  • প্রকাশিত ০৮:২১ রাত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮
এসআই অাশিকুর রহমান
অাশিকুর রহমান। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কামারখন্দ সার্কেল অফিসে অভিযুক্ত ওই উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন কামারখন্দ সার্কেল অফিসের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আতোয়ার রহমান।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাকান্দি গ্রামে আসামি গ্রেফতারের নামে গ্রামবাসীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশফাকুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। ডিআইজি রাজশাহী রেঞ্জ বরাবর গ্রামবাসির লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নির্দেশে শুক্রবার এ তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।  

শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কামারখন্দ সার্কেল অফিসে অভিযুক্ত ওই উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন কামারখন্দ সার্কেল অফিসের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আতোয়ার রহমান। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার কার্যালয়ে নোটিশ করে রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাকান্দি গ্রামের অধিবাসী রেহানা খাতুন, ইতি খাতুন, আসমা বেগম, শাহনাজ পারভীন, মাহমুদা খাতুন, রুবিয়া খাতুন, নাসিমা খাতুন ও আব্দুল হাফিজসহ ৮ জন ভুক্তভোগীর জবানবন্ধী ও স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। 

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কামারখন্দ সার্কেল অফিসে স্বাক্ষীদের জবানবন্দী গ্রহণ শুরু হয়। কয়েকজন স্বাক্ষী জবানবন্দী প্রদান শেষে বাড়ি ফিরে যাবার সময় এসআই আশফাক তাদের হুমকি-ধামকি দেন বলে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন। স্বাক্ষীরা তাৎক্ষনিক বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি এসআই আশফাককে সতর্ক করেন বলেও জানা গেছে। 

এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আতোয়ার রহমান বলেন, “তদন্তের অংশ হিসেবে ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী গ্রামবাসীর স্বাক্ষ্য ও জবানবন্ধী গ্রহণ করা হয়েছে। এসআই আশফাক তদন্তের সময় আমার অফিসে এসেছিলেন, এটা সত্য। তাকে দেখে হয়তো গ্রামবাসীদের কেউ কেউ ভুল বুঝতে পারেন। হুমকি-ধামকির বিষয়টি মনে হয় সঠিক নয়।” 

হুমকি দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আশফাকুর রহমানের মুঠোফোনে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন ধরেন নি। 

উল্লেখ্য, এক নারীকে উত্তক্তের ঘটনায় বারাকান্দি গ্রামের সাথে পাশ্ববর্তী ধলেশ্বর গ্রামের দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ঈদুল আযহা’র আগে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় কামারখন্দ থানার এক পুলিশ সদস্যও লাঞ্ছিত হন। ওই ঘটনায় পুলিশ ও উভয়পক্ষের দ্বারা কমপক্ষে ৫টি মামলা হয়। মামলার আসামি ধরার নামে এসআই আশফাকের নেতৃত্বে ২৬ আগষ্ট রাতে বারাকান্দি গ্রামে পুলিশের তাণ্ডব চলে। বারাকান্দির নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর নির্যাতন, বাড়িঘর ভাংচুর এবং নারীদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসী।