• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০২ রাত

রাবির ১০ম সমাবর্তন আজ

  • প্রকাশিত ১০:১৪ সকাল সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।’ 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১০ম সমাবর্তন আজ শনিবার। এবারের সমাবর্তনে ৬ হাজার ১৪জন গ্র্যাজুয়েট নিবন্ধন করেছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর সূত্রে জানা যায়, সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং বক্তা হিসেবে থাকছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক উপচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক আলমগীর মো. সিরাজুদ্দীন। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করবেন কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন।

এদিকে, সমাবর্তনে প্রক্টর দফতর থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সব হলে তালা দেওয়া থাকবে। এসময়ে কোনও শিক্ষার্থী হল থেকে বের হতে এবং বাইরে থাকা কোনও শিক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট, চারুকলা গেট, স্টেশন বাজার গেট, বধ্যভূমি গেট বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র প্রধান গেট ও বিনোদপুর গেট খোলা থাকবে। তবে গ্র্যাজুয়েটরা কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে রিকশা, অটোরিকশা, মটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। বিকেলে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গ্রাজুয়েট ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। চলাচলের সময় সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। এ ছাড়াও বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকারে শিথিল থাকায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে চলাচলের সময় শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার জন্য বলা হয়েছে।

নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে স্থায়ী ও ভ্রাম্যমান সব দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্র্যাজুয়েট ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, দুইদিন আগে থেকে সব দোকান বন্ধ রাখা অযৌক্তিক। ক্যাম্পাসে কোনও দোকান খোলা নেই। আড্ডার ফাঁকে বা কোনও সময় খেতে চাইলে ক্যাম্পাসে বাইরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। যা শিক্ষার্থীদের জন্য ভোগান্তির। এমনকি ফটোকপি করতে চাইলেও ক্যাম্পাসের বাহিরে যেতে হবে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা মোতাবেক দোকানগুলোক চেক করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি চলে গেলেই আবার খুলে দেওয়া হবে।’

সমাবর্তনের সব ধরনে প্রস্তুতি সম্পন্ন শেষ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাস্তাঘাট সংস্কার, বিভাগে সমাবর্তনের সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া, অতিথিদের জন্য থাকার ব্যবস্থাসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়। এদিকে সমাবর্তনের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।’

প্রভাষ কুমার আরও জানান, সমাবর্তনে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসেনকে   ডক্টরেট ডিগ্রি অব লিটারেচার প্রদান করা হবে। এ ছাড়া অনুষ্ঠান শুরুর আগে ক্যাম্পাসে দুটি অত্যাধুনিক আবাসিক হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি।