• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৫ দুপুর

ঢাকা ট্রিবিউনের গোলটেবিল বৈঠক: নিরাপদ সড়কের জন্য দরকার রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা, সচেতনতা এবং আইনের প্রয়োগ

  • প্রকাশিত ০১:০২ দুপুর অক্টোবর ১, ২০১৮
গোলটেবিল বৈঠক
গত রবিবার ঢাকা ট্রিবিউনের কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘সড়কে নিরাপত্তা: কারণ ও প্রতিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ছবি: রাজিব ধর/ ঢাকা ট্রিবিউন।

ঢাকা ট্রিবিউনের কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘সড়কে নিরাপত্তা: কারণ ও প্রতিকার’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা সড়কে শৃঙ্খলা বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার এবং এগুলোর সম্ভাব্য সমাধানের কথা তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা, সচেতনতা এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা দেশের সড়ক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ন বলে ঢাকা ট্রিবিউন এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা মত প্রকাশ করেছেন। 

গত রবিবার ঢাকা ট্রিবিউনের কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘সড়কে নিরাপত্তাকারণ ও প্রতিকার’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, পরিবহণ মালিক এবং বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সড়কে শৃঙ্খলা বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার এবং এগুলোর সম্ভাব্য সমাধানের কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে উপস্থিত চিত্রতারকা এবং নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রধান ইলিয়াস কাঞ্চন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো অসম্ভব নয় উল্লেখ করে বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন নিয়ে জনসচেতনতা তৈরী সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু তার জন্য দরকার রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন। পাঠ্যপুস্তকেও সড়ক নিরাপত্তার এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করাও জরুরী।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনার মূল কারণ লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং অদক্ষ চালক। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের শহরে এরকম অসংখ্য ফিটনেসবিহীন গাড়ি চললেও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়না’। এছাড়াও তিনি তার বক্তব্যে দেশের হাইওয়েগুলোর পাশে স্থানীয় যানবাহন চলাচলের জন্য সার্ভিস রোড চালু করার প্রস্তাব দেন। 

বিআরটিএ পরিচালক মাহবুব-এ-রাব্বানী বলেন, ‘শিক্ষা ছাড়া সড়ক যোগাযোগে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ন। দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য কিছু মৌলিক প্রকৌশলী জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। যদিও আমাদের অফিসারদের তা নেই। কিন্তু আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এই সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহী নয়। আমরা যোগাযোগ খাতকে একটি সম্মানজনক পেশার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারিনি’। 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথী স্থানীয় সরকারপল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত ও দুর্ঘটনা হ্রাসে রাজধানী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা হাইওয়েগুলোতেও স্থাপন করা প্রয়োজন। সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি সরকারকে এ ব্যাপারে সাহায্য করতে প্রস্তুত আছে। এতে করে দুর্ঘটনার তদন্তসহ অপরাধীদের সনাক্ত করা সহজ হবে'।

ঢাকা ট্রিবিউনের স্ট্র‍্যাটেজিক এন্ড প্ল্যানিং এডিটর আসিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে আইন অনেক আছে। আরো একটি নতুন আইন আসতে যাচ্ছে। কিন্তু এইসব আইনের প্রয়োগ না হলে শুধু আইন দিয়ে কিছু হবেনা’।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান কেটি ক্রোক বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা কোন রাজনৈতিক ইস্যু নয়। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই ধরণের বৈঠক আরো আয়োজন করা প্রয়োজন’।

বৈঠকে ঢাক ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। আমরা সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনে দেখেছি তারই প্রতিফলন। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে বাস ও ট্রাক চালকদের বেপরোয়া চালনার জন্য। তাই পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন'।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ (এসপিএল) বিষয়ক প্রকল্পের প্রোগ্রাম পরিচালক লিপিকা বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি সম্পাদক ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী এবং বিএম সাজ্জাদ কামাল।