• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩২ রাত

অবসরে যাচ্ছেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল

  • প্রকাশিত ১১:০৭ সকাল অক্টোবর ৪, ২০১৮
অধ্যাপক জাফর ইকবাল
রঙিন চশমা অনুষ্ঠানে কেক কাটছেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন।

তিনি বলেন, 'আমি তোমাদের সাথে বৃষ্টিতে ভিজবো, কারণ আমি এই বাংলাদেশে এসেছি একমাত্র বৃষ্টির জন্য। পৃথিবীতে বাংলাদেশের মতো এতো সুন্দর বৃষ্টি আর কোথাও নেই।'

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(শাবিপ্রবি) শিক্ষক এবং জনপ্রিয় লেখক ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শেষে বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) অবসরে যাচ্ছেন।  অধ্যাপক জাফর ইকবালের ব্যক্তিগত সহকারী জয়নাল আবেদিন ঢাকা ট্রিবিউনকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।

১৯৯৪ সালে অধ্যাপক জাফর ইকবাল বিখ্যাত বেল কমিউনিকেশনস রিসার্চ (বেলকোর) এর গবেষকের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে ডিসেম্বরের ৪ তারিখে শাবিপ্রবিতে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন। শাবিপ্রবিতে তার দীর্ঘ এ কর্মজীবনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতির পদে আসীন ছিলেন। তিনি একাধারে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ইলেক্ট্রিক এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক জাফর ইকবালের শেষ কার্যদিবস উপলক্ষ্যে গত বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে 'রঙিন চশমা' শীর্ষক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, আলোচনা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইআইসিটি ভবনের তিন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিক্ষক ও সহকর্মী এই মানুষটির শেষ কর্মদিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ অন্যান্য অতিথিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে।   

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক জাফর ইকবাল তার অনুভূতি ব্যক্ত করার সময় বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার খুব সুন্দর সময় কেটেছে। তোমরা শিক্ষার্থীরা সবাই মিলে আমাকে এতো কিছু দিয়েছো যার ঋণ কোনোদিন আমি শোধ করতে পারবো না। আমি আগামী এক বছর পর্যন্ত অফিসিয়ালি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছি, তবে কোনো কাগজে আমার সিগনেচার থাকবে না’

শাবিপ্রবির সকল কিছুর প্রতি তার ভালোবাসা চিরদিন অটুট থাকবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তোমরা, শিক্ষার্থীরা যদি কখনো কোন গানের অনুষ্ঠান করো আমাকে দাওয়াত দিলে আমি অবশ্য আসবো। আমি তোমাদের সাথে বৃষ্টিতে ভিজবো, কারণ আমি এই বাংলাদেশে এসেছি একমাত্র বৃষ্টির জন্য। পৃথিবীতে বাংলাদেশের মতো এতো সুন্দর বৃষ্টি আর কোথাও নেই

গত ৩ মার্চ বিকাল ৫টায় ৪০মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় ফয়জুল হাসান নামে এক তরুণ। হামলার পর ড. জাফর ইকবালকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।  সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে এয়ার-অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়।  পরবর্তীতে ১৪ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে সরাসরি শাবিতে আসলেও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অধ্যাপক জাফর ইকবাল দীর্ঘদিন বিশ্রামে ছিলেন। হামলার এক মাস পর তিনি প্রথম ক্লাস নিয়েছিলেন। 

এই দুঃসময়ের স্মৃতিকেও অস্বাভাবিক উজ্বল ভাবে তার মানসপটে তুলে রেখেছেন মানুষটি। ঐ ঘটনার স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন হেলিকপ্টার হতে স্ট্রেচারে করে নামানো হলো, সেদিন আকাশে ফুটফুটে চাঁদ ছিল। আমার চোখ ছিল সেই চাঁদের দিকে। আমার সেদিন মনে হয়েছে এতো সুন্দর পৃথিবী আমি আবার দেখবার সুযোগ পেয়েছি শুধু মাত্র তোমাদের ভালোবাসা পেয়ে। মানুষের সাথে মানুষের ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু নেই। আমরা যারা ৭১ প্রজন্মের লোক তারা দেখেছি মানুষ কিভাবে আমাদের উপকার করে। আর এই থেকে আমার মাঝে পজিটিভ চেতনা তৈরি হয়। তাই কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি সদা উত্তর দেই আমার কাছে আইডল হচ্ছে এই বাংলাদেশের মানুষ

এছাড়া এ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক জাফর ইকবালের সাথে শিক্ষার্থী এবং সহকর্মী হিসেবে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য প্রদান করেন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও আইআইসিটি পরিচালক অধ্যাপক শহিদুর রহমান এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রেজা সেলিম।