• শুক্রবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৩ রাত

দায়ের হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রথম মামলা

  • প্রকাশিত ০৪:১৩ বিকেল অক্টোবর ১১, ২০১৮
দায়ের হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রথম মামলা
আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ছবি: সৌজন্যে

মামলাটি তদন্তাধীন আছে

সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। নতুন এই আইনে দায়ের হওয়া এটিই প্রথম মামলা। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী প্রতারকচক্রের গ্রেফতারকৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। 

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার কালাম গাজীর ছেলে কাউসার গাজী (১৯), চাঁদপুরের মতলবের জাকির হোসেনের ছেলে সোহেল মিয়া (২১), মাদারীপুরের কালকিনির হাসানুর রশীদের ছেলে তারিকুল ইসলাম শোভন (১৯), নওগাঁর পত্নীতলার আলমের ছেলে রুবাইয়াত তানভির (আদিত্য), টাঙ্গাইলের কালিহাতীর আনসার আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান ইমন।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, ‘তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় বুধবার (১০ অক্টোবর) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ধারা ২৩(২), ২৪(২) ও ২৬(২)-সহ পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন ১৯৮০-এর ৪/১৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, “এই প্রশ্ন ফাঁসকারী প্রতারকচক্রের মাস্টারমাইন্ড কাউসার গাজীকে গ্রেফতার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, বর্তমানে তারা প্রশ্ন ফাঁস করতে পারছে না। তাই নিজেদের মতো করে প্রশ্ন তৈরি করে বিভিন্ন ফেক ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করে ১০০ শতাংশ গ্যারান্টির প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে।”

মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, ‘মাস্টারমাইন্ড কাউসার গাজীকে এ কাজে সহযোগিতা করতো তার বন্ধু সোহেল মিয়া। সে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতো।’

মোল্লা নজরুল আরও বলেন, “তারা বিভিন্ন সাজেশন বই, বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্র একত্রে করে এই ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে। এই ভুয়া প্রশ্নপত্র কতিপয় ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম বুধবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর কাজলাপার, দনিয়া, যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে দুটি মোবাইল ও একটি বিকাশ রেজিস্টারসহ দুজনকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া একই দিন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে বাড্ডা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাড্ডা থানাধীন আলিফনগর এলাকা থেকে তিনজনকে তিনটি মোবাইল ও দুটি ল্যাপটপসহ গ্রেফতার করা হয়।”

গ্রেফতারের সময় আসামিদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল, দুটি ল্যাপটপ ও বিকাশের রেজিস্টার খাতা উদ্ধার করা হয়। মামলার তদন্ত বিষয়ে বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, “এই মামলাটি তদন্তাধীন আছে। আমরা আশা করি, প্রতারকচক্রের আরও বেশ কিছু সদস্যকে গ্রেফতার করতে পারবো।”

প্রসঙ্গত; ২০ সেপ্টেম্বর সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিলটি পাস হয়। এরপর গত ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিলটিতে সম্মতি দেওয়ার পর থেকে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়।