• শুক্রবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৩ রাত

মানব সম্পদ সূচকে ভারতের উপরে বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত ০৪:২৯ বিকেল অক্টোবর ১১, ২০১৮
বাংলাদেশী শিক্ষার্থী
মানব সম্পদ সূচকে বাংলাদেশ ভারত এবং পাকিস্তানের উপরে অবস্থান করছে। ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু/ ঢাকা ট্রিবিউন।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের বার্ষিক সভায় এই সূচকের তালিকা প্রকাশ করা হয়

মানব সম্পদের উন্নয়নের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা বিশ্ব ব্যাংকের নতুন মানব সম্পদ সূচকে বাংলাদেশ ভারতের উপরে অবস্থান করছে। মানব সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও বিকাশের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সরকারের বিনিয়োগের উপর ভিত্তি করে এই সূচকে বিভিন্ন দেশের অবস্থান নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

গত বৃহস্পতিবার, ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের বার্ষিক সভায় এই সূচকের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই তালিকায় বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে উপরে অবস্থান করছে।

মানব সম্পদ সূচকের তালিকা থেকে দেখা যায় যে, বর্তমানে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী সাধারণ শিশুর ৪৮ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে পরিপূর্ন সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুর ন্যায় সৃজনশীল হয়ে থাকে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রতি ১০০জন শিশুর মধ্যে ৯৭ জনই অন্তত ৫ বছর বয়স পর্যন্ত বেচে থাকতে পারে।

এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বাংলাদেশে যেসব শিশু চার বছর বয়সে তাদের স্কুল জীবন শুরু করে, তারা ১৮ বছর বয়সের মধ্যেই তাদের ১১ বছরের স্কুলশিক্ষা সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়। সূচকে বাংলাদেশি ছাত্রদের স্কোর এসেছে ৩৬৮, যেখানে ৩০০ স্কোরকে নূন্যতম এবং ৬২৫ স্কোরকে অগ্রবর্তী স্কোর হিসেবে গণ্য করা হয়।

এই প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে বাচ্চারা প্রকৃত অর্থে যে জ্ঞান লাভ করে তা শেষ করতে ৬.৫ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন।

এছাড়াও বাংলাদেশে বসবাসরত ১৫ বছর বয়সীদের ৮৭ শতাংশই ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। বাংলাদেশের শতকরা ৬৪ ভাগ শিশুর স্বাস্থ্যবিকাশ অব্যাহত ধারায় চললেও বাকিদের জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে শারীরিক কিংবা মানসিক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়।

এই তুলনায় ভারতের ১৫ বছর বয়সী শিশুদের ৮৩ শতাংশ ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচার সম্ভাবনা থাকে। যেখানে পাকিস্তানে এই হার ৮৪ শতাংশ এবং নেপালে এই হার ৮৫ শতাংশ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ২০১৭ সালে মানব সম্পদ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর আঞ্চলিক  গড় থেকে বেশী হলেও আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ অবস্থান আঞ্চলিক গড়ের নিচে ছিল। 

উল্লেখ্য, মানব সম্পদ সূচকের উদ্দেশু হল মানপব সম্পদ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং মানব সম্পদে আরও বেশি বেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা এবং সেই লক্ষ্যে দেশগুলোর মধ্যে একটা তাগিদের মনোভাব গড়ে তোলা।