• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ রাত

‘বাউল-সম্রাট’-এর ১২৮তম তিরোধান দিবস

  • প্রকাশিত ১২:০৮ দুপুর অক্টোবর ১৭, ২০১৮
লালন সাঁই
লালন সাঁই। ছবি: ডিটু

লালন বিশ্বাস করতেন সকল মানুষের মাঝেই একটা মনের মানুষ বাস করে।

‘বাউল-সম্রাট’ লালন সাঁইয়ের ১২৮ তম তিরোধান দিবস আজ। 

ফকির লালন, লালন সাঁই, লালন শাহ, মহাত্মা লালন- যেই নামেই ভক্তরা ডাকুক, তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় মানবতাবাদী সাধক হিসেবে; যিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগতবিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে স্থান দিয়েছিলেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। 

আনুমানিক ১৭৭৪ সালে লালন সাঁই এর জন্ম। তবে তাঁর জন্ম কোথায় তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কিছু সূত্রানুসারে ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) ঝিনাইদহজেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হারিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। তবে কোনো কোনো লালন গবেষকের মতে, লালনের জন্ম কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার চাপড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাড়ারা গ্রাম।

আধ্যাত্মিক বাউলসাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক,এবং দার্শনিক লালনের জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত কোন তথ্য নেই। তবে অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়কলালনের রচিত ২৮৮টি গানে তাঁর সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যায়।। তাঁর কোনো গানেই তাঁর জীবন সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য তবে কয়েকটি গানে তিনি নিজেকে "লালন ফকির" হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পনেরো দিন পর কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত 'হিতকরী'পত্রিকার সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলা হয়, “ইহার জীবনী লিখিবার কোন উপকরণ পাওয়া কঠিন। নিজে কিছু বলিতেন না। শিষ্যরা তাঁহার নিষেধক্রমে বা অজ্ঞতাবশতঃ কিছুই বলিতে পারে না।"

লালন তার জীবদ্দশায় নিজের ধর্ম পরিচয় কারও কাছে প্রকাশ করেন নি। লালনের অসাম্প্রদায়িকতা, লিঙ্গ বৈষম্যের বিরোধিতা ইত্যাদির কারণে তাকে তাঁর শিকার হতে হয়েছিল ধর্মান্ধ এবং মৌলবাদী হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের অযাচিত ঘৃণা, বঞ্চনা এবং আক্রমণের।

সমগ্র বিশ্বে,বিশেষ করে বাংলাদেশসহ সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে লালনের গান বেশ জনপ্রিয়। শ্রোতার পছন্দ অনুসারে বিবিসি বাংলার করা সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় লালনের "খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়" গানটির অবস্থান ১৪তম।

উপমহাদেশের সেরা লালন সঙ্গীত শিল্পীদের একজন হলেন ফরিদা পারভিন। জনপ্রিয় লালন সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে আরও আছেন আনুশেহ আনাদিল, অরূপ রাহী, ক্লোজআপ ওয়ান তারকা মশিউর রহমান রিংকু ।

লালন দর্শনে শুধু এই উপমহাদেশই নয়, মজে ছিলেন মার্কিন কবি এলেন গিন্সবার্গও।লালনের দর্শন তাঁকে এতোটাই মোহিত করেছিল যে তাঁর রচনাবলীতেও লালনের রচনাশৈলীর অনুকরণ দেখা যায়। লালন-প্রেমে এতোটাই বিমুগ্ধ হয়েছিলেন যে 'আফটার লালন' নামে একটি কবিতাও রচনা করেছিলেন তিনি।

লালনের গানে মানুষ ও তার সমাজ ছিল মুখ্য। লালন বিশ্বাস করতেন সকল মানুষের মাঝেই একটামনের মানুষ বাস করে। আর সেই মনের মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় আত্মসাধনার মাধ্যমে। দেহের ভেতরেই মনের মানুষ- অচিন পাখির বাস। সেই অচিন পাখির সন্ধান মেলে পার্থিব দেহ সাধনার ভেতর দিয়ে দেহোত্তর জগতে পৌঁছানোর মাধ্যমে। আর এটাই বাউলতত্ত্বে 'নির্বাণ' বা 'মোক্ষ' বা 'মহামুক্তি' লাভ।