• বুধবার, জুন ০৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪ রাত

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আদলে সেজেছে পূজার প্যান্ডেল

  • প্রকাশিত ০৩:৩৬ বিকেল অক্টোবর ১৭, ২০১৮
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আদলে সেজেছে পূজার প্যান্ডেল
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আদলে সেজেছে পূজার প্যান্ডেল। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

এই মণ্ডপটি প্রত্যেক বছর নতুন কোনো বিষয়কে তুলে ধরে সাজায় নিজেদের প্যান্ডেলের সাজসজ্জা

‘ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার’, রাজশাহী নগরীর রানীবাজার এলাকার টাইগার সংঘের পূজোমণ্ডপ যেন জানান দিচ্ছে সেই বার্তাই। রানীবাজারের টাইগার সংঘের পূজো মণ্ডপের প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর আদলে।

সোমবার (১৫ অক্টোবর) থেকে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আলোকসজ্জায় সেজেছে নগরীর পূজো মণ্ডপগুলো। তেমনি নগরীর রানীবাজার এলাকায় টাইগার সংঘের আয়োজনে চলছে পূজোর উৎসব। এই মণ্ডপটি প্রত্যেক বছর নতুন কোনো বিষয়কে তুলে ধরে সাজায় নিজেদের প্যান্ডেলের সাজসজ্জা। 

২০১৬ সালে ক্রিকেটে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অবদানকে স্মরণ করে বাঘের মুখের আদলে সাজিয়ে ছিলো প্যান্ডেল। ২০১৭ সালে ভারতীয় ‘বাহুবলী’ সিনেমার পোস্টারের আদলে সাজানো হয়েছিল। আর এবার সাজানো হয়েছে বাংলাদেশের সব থেকে বড় অর্জন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর আদলে।

টাইগার সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থ পাল চৌধুরী বলেন, “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর আদলে পূজো মণ্ডপ সাজানোর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমরা আমাদের দেশকে হাইলাইট করতে চেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে এতো বড় সাফল্য দেশবাসীকে উপহার দিয়েছেন মূলত আমরা সেটিকেই আরও ভালভাবে সকলের সামনে তুলে ধরতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” 

তার মতে, “টেলিভিশন, পত্রপত্রিকা তো সমাজের এক শ্রেণির মানুষ দেখে বা পড়ে। সমাজের অনেক নিম্ন শ্রেণির মানুষ আছে, আবার অনেক ছোট ছোট বাচ্চারা আছে যারা এ সম্পর্কে এখনো ভালোভাবে জানে না। কী এই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, এর কাজ কী? এই পূজো মণ্ডপে এমন সকল পেশা শ্রেণির মানুষ আসবে, তারা দেখবে এবং এই সম্পর্কে তাদের জানার আগ্রহ তৈরি হবে। তাই প্রতি বছরের মতো আমরা আরও একটি ব্যতিক্রমী বিষয়কে বেছে নিয়েছি। আর সেটি হলো এই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। যা আমাদের সরকারের এবং আমাদের দেশের অনেক বড় অর্জন এবং গৌরবের বিষয়।”

টাইগার সংঘের সদস্য পলাশ রায় বলেন, “দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। এর একটা প্রচার হিসেবে এই পূজো মণ্ডপের প্যান্ডেল এভাবে সাজানো হয়েছে। বাংলাদেশ ভালো কিছু করেছে, সেটিকে স্বাগত জানিয়েই সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি।”

ছন্দা রানী, তিথি দেব, সুমন দেব এই তিন ভাই বোনের মতো আরও অনেক দর্শনার্থী প্যান্ডেলের সামনে ছবি নিতে ব্যস্ত। মা-বাবারা তাদের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের আঙুল দিয়ে দেখিয়ে প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে কী এই স্যাটেলাইট। কথা হলো পূজা মণ্ডপে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালাইসিস্ট বিমলেন্দু শেখর সরকার তার ছেলে সোহম সরকারকে নিয়ে এসেছিলেন পূজো মণ্ডপে প্রতিমা দেখাতে। প্যান্ডেলের কাছে সোহমের কাছে প্রশ্ন, এখানে কেন এসেছো? ছয় বছরের সোহম উত্তর দেয়, “প্রতিমা দেখতে।” কী দেখতে পাচ্ছ? এমন প্রশ্নের জবাবে ছোট্ট সোহম বলে, “একটা পৃথিবী আর একটা স্যাটেলাইট।’ তুমি স্যাটেলাইট সম্পর্কে জানো এমন প্রশ্নের সোহম জানালো, “মোবাইলের ভালো নেটওয়ার্ক আর কম্পিউটারের কাজে লাগে।” ছেলের এমন সাবলীল উত্তরে বাবার মুখে একগাল হাসি। 

এমন আয়োজন সম্পর্কে বিমলেন্দু শেখর সরকার বলেন, “এটি অনেক ভালো উদ্যোগ। কয়েকদিন ধরে দেখছিলাম গম্বুজের মতো কিছু একটা করার চেষ্টা করছে। পরে দেখলাম স্যাটেলাইট। আসলে আমাদের দেশ এই প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করল। যেটি অনেক দেশের পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। এটি প্রযুক্তিতে অনেক সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আর এভাবে পূজা মণ্ডপ সাজিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টিকে তুলে ধরার চেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। কারণ এখানে দৈনিক কর্মজীবী থেকে সকল ধরনের সাধারণ মানুষ আসবে, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আসবে। তারা এই সম্পর্কে একটি দৃশ্যমান ধারণা পাবে এবং প্রত্যেকেই একটি অনুপ্রেরণার জায়গা পাবে।” 

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী স্বপন কুমার তালুকদার ছোট নাতনিকে পূজা মণ্ডপ দেখাতে নিয়ে এসে বললেন, “এটি চমৎকার একটি উদ্যোগ। টাইগার সংঘ প্রতিবছর নতুন কিছু করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিজ্ঞান মেলা বা কোনো প্রদর্শনীতে এতো বড় পরিসরে এমনভাবে দেখানোর সুযোগ থাকে না, আর সেখানে সবাই যেতেও পারে না। এটি সর্বসাধারণের আসার জায়গা। আমি চাই মানুষের জীবনকে যে বিষয়গুলো আরো আধুনিক করে, যুগোপযোগী ও আরও সহজ করে এমন আরও নতুন নতুন বিষয় যেন আগামীতে এভাবে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হয়।”

দাওকান্দি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান বুলবুল এসেছিলেন রাজশাহীতে পূজো মণ্ডপ ঘুরে দেখতে। মুসলিম হয়ে পূজো মণ্ডপ দেখতে এসেছেন কেন জানতে চাইলে বলেন, “ধর্ম নিয়ে কথা বলা ঠিক না, তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আর আমার হিন্দু মুসলিম সব ধরনের বন্ধুই আছে। তাই আমি এসব কুসংস্কার মানি না।” 

এখানে এসে কী দেখলেন এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, “স্যাটেলাইট সম্পর্কে আমার যে ধারণা ছিল এমন দৃশ্যমান চমৎকার একটি সাজসজ্জা দেখে আমি অভিভূত। অনেক ছবি তুলেছি, বন্ধুদের দেখাতে চাই এবং বন্ধুদের সাথে নিয়ে আবার আসতে চাই।”

টাইগার সংঘ ৩৭ বছর ধরে এখানে পূজো করে আসছে। প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে সাজানো হয়েছে এই পূজো মণ্ডপ। অর্থের যোগানের বিষয়ে আয়োজকরা জানান, “এখানে কিছু ডোনার আছে, সিটি করপোরেশন থেকে কিছু বরাদ্দ থাকে, মেয়র ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে কিছু দেন, আর সরকারি অনুদান হিসেবে ১০০ কেজি চাল বরাদ্দ হয়েছে। বাকিটা সকল সদস্যরা দেয়।”


51
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail