• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২১ দুপুর

বান কি মুন: জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ রোল মডেল

  • প্রকাশিত ০৪:০৩ বিকেল অক্টোবর ১৯, ২০১৮
গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ
গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। ছবি: বাসস।

বান-কি মুন তার বক্তৃতায় একটি জোরালো ও উদ্ভাবনী উপায়ে প্রস্তাব উত্থাপন করে একজন বিশ্ব নেতা হিসাবে ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় বিশ্বে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। গত সোমবার বান-কি মুন নেদারল্যান্ডে গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।   

তিনি এসময় বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্বেও জলবায়ু পরিবতর্ন জনিত সমস্যা মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা মেকাবেলায় জিসিএ একটি নুতন উদ্যোগ। এই উদ্যোগের কনভেনার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, মাশার্ল দ্বীপ, আর্জেন্টিনা, চীনের প্রধানমন্ত্রী, জামার্নীর চ্যান্সেলর, নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, ইথীয়পিয়া, এবং গ্রেনাডা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে রয়েছে”। 

বান-কি মুন তার বক্তৃতায় একটি জোরালো ও উদ্ভাবনী উপায়ে প্রস্তাব উত্থাপন করে একজন বিশ্ব নেতা হিসাবে ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। জাতি সংঘের সাবেক মহাসচিব উন্নয়নশীল বিশ্বে বেসরকারি তহবিল গঠন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি আরো অর্থ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহবান জানান।

হিমালয়ে বরফপাতের সমস্যার প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বান কি মুন হিমালয় অববাহিকার দেশসমূহে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা নিরসনে আরো সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধিকারী পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “সমস্যা সমাধানে লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক তহবিল জরুরি”।

তিনি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া দশ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরনার্থীর উপস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “তাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে”।

পরিবেশ মন্ত্রী এসময় একটি পরিবেশ বান্ধব ও অখন্ড দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুর সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুটিও সম্পৃক্ত করবে বলেও আশ্বাস দেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভিডিও বার্তা উপস্থাপন করা হয়। তিনি বার্তায় বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে সৃষ্ট দুযোর্গঝুকি হ্রাসের কৌশল তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নিরাপদে বসবাস করবে এবং দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।