• বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫ রাত

কীভাবে শুরু হলো ‘পাঠাও’?

  • প্রকাশিত ০৭:২০ রাত অক্টোবর ১৯, ২০১৮
Pathao
রাইড শেয়ারিং সেবা পাঠাও। ছবি: সৌজন্যে

১০০টি মোটরসাইকেল আর ১০০জন চালক নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল

বিশ্বের যে কোনও দেশেই ব্যবসা শুরুর বিষয়টি বেশ কষ্টসাধ্য, বিশেষ করে ইউরোপ এবং মার্কিন বাজারে। উন্নত বিশ্বের এই দেশগুলোতে উবার এবং লিফট-এর মতো রাইড শেয়ারিং সেবা যেখানে আগে থেকেই আছে, সেখানে নতুন করে এ ধরনের সেবাভিত্তিক ব্যবসা শুরু করার বিষয়টি কতটুকু যৌক্তিক? 

তাই বলে কী ব্যবসার চিন্তা বাদ দিতে হবে? মোটেও না। শুধু নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। যেমন, যে সেবাটি ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে না-ও চলতে পারে বা প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে, সে সেবাটিরই হয়তো বিশ্বের অন্য কোনো দেশে খুব ভালো চাহিদাসম্পন্ন বাজার রয়েছে।           

নিজস্ব মোটরসাইকেল ট্যাক্সি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি আমি। বাংলাদেশে যখন ব্যবসা শুরু করার জন্য বাজার গবেষণা করছিলাম, তখনও আমার নজর মোটরসাইকেল ট্যাক্সি ইন্ডাস্ট্রির দিকে ছিলো না।

২০১৫ সালে বাংলাদেশের রাজধানীতে প্রথমে ‘অন-ডিমান্ড ডেলিভারি’ সেবা হিসেবে পাঠাও প্রতিষ্ঠা করি। পরে এক বিনিয়োগকারী দেখান মোটরসাইকেল ট্যাক্সির সম্ভাবনা। একই সেবা ইন্দোনেশিয়া-তে শুরু করে সাফল্যের দেখা পেয়েছিলেন ওই বিনিয়োগকারী। ফলে ‘পাঠাও’ সেবাকে নতুনভাবে ওই আঙ্গিকে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেই আমরা।

তবে আমি ঠিক নিশ্চিত হতে পারছিলাম না বাংলাদেশিরা মোটরসাইকেল ট্যাক্সির বিষয়টিকে ঠিক কীভাবে গ্রহণ করবে। শুরুতে কিছুটা সময় নিয়েছিলেন মানুষ। সম্পূর্ণ অপরিচিত একজনের মোটরসাইকেল পেছনে বসতে একটু সময় লেগেছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে আমরা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। 

১০০টি মোটরসাইকেল আর ১০০জন চালক নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। আর এখন আমাদের এক লাখ ফ্রিল্যান্স চালক ও বাইক রয়েছে। আমরা মানুষকে পাঠাওয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে মোটরসাইকেল পর্যন্ত কিনতে দেখেছি।

আমার এবং পাঠাও টিমের জন্য এটি অনেক বড় একটি অর্জন। তবে পাঠাও-এর আসল অর্জনটি হলো যেভাবে বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছে সেবাটি। বাংলাদেশিরা এখন রাস্তা গাড়ি দিয়ে ভীড় করে ফেলার বদলে রাইড শেয়ারিং সেবার উপর নির্ভর করছেন।

(মূল নিবন্ধের বিশেষ কিছু অংশের রূপান্তর এটি)