• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৩ রাত

শব্দদূষণ প্রতিকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্কুল ছাত্রের চিঠি

  • প্রকাশিত ০৪:৪১ বিকেল অক্টোবর ২২, ২০১৮
চিঠি
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা স্কুল শিক্ষার্থীদের চিঠি। ছবি: সৌজন্য

চিঠির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পরিবেশ অধিদফতরকে জানিয়েছেন

ঢাকার রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী চারপাশের শব্দদূষণ মোকাবেলায় হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদনপত্র পাঠিয়েছে।

১৪ই আগস্ট আলাদা দু’টি চিঠিতে তারা লিখেছে যে, শব্দদূষণের ফলে তাদের পড়াশুনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে; এটি শুধুমাত্র তাদের শিক্ষা কার্যক্রমকেই নয় প্রভাবিত করছে না, পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

ওই স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আবীর হোসেন তার চিঠিতে জানান, যানবাহনের হর্ন, নির্মাণ কাজ এবং অনুষ্ঠানাদিতে বাজানো উচ্চ মাত্রার মিউজিকে তীব্র শব্দদূষণের শিকার হচ্ছে তারা। এই ধরনের উচ্চশব্দে মাথা ব্যাথা, ঘুমের সমস্যাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সৃষ্টি করছে; একই সঙ্গে পড়াশুনায় মনোযোগ বসাতেও সমস্যা হচ্ছে।

একই স্কুলের নবম শ্রেণীর আরেকজন ছাত্র, ইমরান হোসেন লাবু, তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, "স্কুলে পড়াশুনা করার সময় আমরা গণিত ও অন্যান্য বিষয়গুলো বুঝতে সমস্যার মুখোমুখি হই। এই দূষণের ফলে আমাদের পড়াশুনা এবং স্বাস্থ্য প্রভাবিত হচ্ছে। শব্দদূষণের কারণে আমি মাথা ব্যাথা এবং কানের সমস্যায় পড়েছি। "

চিঠির জবাবে ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জানিয়েছেন।

এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক জিয়াউল হক, ঢাকা মহানগর পরিচালককে মোবাইল কোর্ট ব্যবহার করে এ সমস্যা সম্পর্কে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

বর্তমানে পরিবেশ অধিদপ্তর তার "সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক প্রোগ্রাম"এর মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

চলমান কর্মসূচি 

পরিবেশ অধিদফতরের আইসিটি বিষয়ক এবং ‘সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক প্রোগ্রাম’ এর পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের দ্বারা শব্দদূষণের বিষয়ে সচেতনতা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদফতরের এ বিভাগটি সাউন্ড লেভেল পরিমাপক যন্ত্র কিনে ট্রাফিক পুলিশ, বিআরটিএ এবং অধিদফতরের অন্যান্য অফিসগুলিতে পাঠিয়েছে যাতে তারা সাউন্ড লেভেল পরিমাপ করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, বলে জানিয়েছেন ফরিদ আহমেদ।

বিভাগের মহাপরিচালক সুলতান আহমেদ বলেন, তারা শব্দদূষণ মোকাবেলার জন্য নিয়মিত প্রচারাভিযানের প্রোগ্রাম ছাড়াও একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করছেন।

তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইতিমধ্যেই এটিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে বলেছি।" 

জরিপের ফলাফল

গত বছর জুনে প্রকাশিত একটি জরিপে পাওয়া গেছে, ঢাকায় বহু এলাকায় শব্দদূষণ সর্বোচ্চ স্তর ১২০-১৩০ ডেসিবেলে পৌঁছেছে। এর মধ্যে দিনে ফার্মগেটে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ ১৩০.২ ডেসিবেল মাত্রার শব্দ। যা রাতে সর্বনিম্ন ৬৫.৭ ডেসিবেল।

শব্দদূষণ (রেগুলেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল) আইন ২০০৬ অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় গ্রহণযোগ্য শব্দের মাত্রা দিনের (সকাল ৬ টা থেকে রাত ৯ টা) জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতের (রাত ৬ টা থেকে সকাল ৯ টা) জন্য ৪৫ ডেসিবেল; নীরব এলাকার জন্য দিনে ৫০ ডেসিবেল এবং রাতের জন্য ৪০ ডেসিবেল; মিশ্র এলাকায় দিনের জন্য ৬০ ডেসিবেল এবং রাতে ৫০ ডেসিবেল; বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবেল ও রাতের জন্য ৬০ ডেসিবেল; এবং শিল্প অঞ্চলে দিনে ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতের জন্য ৭০ ডেসিবেল।