• বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

বিশ্বের ৮৬ ভাগ ইরাবতী ডলফিনের বাস বাংলাদেশে!

  • প্রকাশিত ০৫:০৯ সন্ধ্যা অক্টোবর ২৩, ২০১৮
ডলফিন
বিশ্বের ৮০ প্রজাতির ডলফিনের অন্তত ১২ প্রজাতি আশ্রয়স্থল বাংলাদেশ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

পুরো বিশ্বে বেঁচে থাকা সাত হাজার ইরাবতী ডলফিনের মধ্যে ছয় হাজারই রয়েছে বাংলাদেশে

বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের কথা বলতে গেলে সবার আগেই উঠে আসবে ইরাবতী ডলফিনের কথা। গোটা বিশ্বের ডলফিনের এই প্রজাতির মাত্র সাত হাজারটি এখনও বেঁচে আছে। আর এই সাত হাজার শুশুকের মধ্যে ছয় হাজারই অভয়ারণ্য খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্বের কোথাও যেখানে এই প্রজাতির ডলফিন ২০০টির বেশি দেখা যায় না সেখানে বাংলাদেশেই রয়েছে পুরা বিশ্বের ৮৫.৭ ভাগ। অর্থাৎ বিপন্ন হয়ে পড়া এই ডলফিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল এখন বাংলাদেশ।

বন বিভাগের উদ্যোগে ও জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অর্থায়নে এক বছর ধরে চলা এক জরিপের পরা জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকার নদীগুলোতে নোনা ও মিঠা জলের ভারসাম্যই এর অন্যতম কারণ। এই জরিপের লক্ষ্য ছিল ডলফিনের বসবাসের উপযুক্ত এলাকা (হট স্পট) চিহ্নিত করা।

একটি গণমাধ্যমে এই জরিপের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, সুন্দরবনসহ দেশের উপকূলীয় এলাকা ছাড়াও প্রধান নদীগুলোতে ডলফিনের বিচরণ এবং বসবাসের জন্য উপযুক্ত এলাকা খুঁজে পাওয়া গেছে। 

জরিপে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি ডলফিনের একটি বড় বসতি এলাকা পাওয়া গেছে নিঝুম দ্বীপের ভাটিতে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নদীতে দূষণ ক্রমাগত বেড়ে যাওয়া, কারেন্ট জালের বিস্তার, এদের বসতি এলাকায় যান্ত্রিক নৌ-যানের সংখ্যা বৃদ্ধির পরও দেশে ডলফিন টিকে আছে। তবে যেভাবে ডলফিনের বসতি এলাকায় মানুষের উৎপাত বাড়ছে, তাতে সামনের দিনগুলোতে এদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।

বন বিভাগ ও ইউএনডিপির জরিপে বলা হয়েছে, শুধু ইরাবতী নয়, বিশ্বের ৮০ প্রজাতির ডলফিনের অন্তত ১২ প্রজাতি আশ্রয়স্থল বাংলাদেশ। এর মধ্যে গাঙ্গেয় ডলফিন এবং ঘূর্ণি ডলফিনের সংখ্যাও বেশ লক্ষ করার মতো। বিশ্বজুড়ে বিপন্ন হয়ে পড়া এই দুই প্রজাতির ডলফিনের সংখ্যা অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি। দেশের উপকূলীয় এলাকাজুড়ে সুন্দরবন, নিঝুম দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন, সোনাদিয়া দ্বীপের পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং বিশেষ করে, নতুন জয় করা সমুদ্রসীমায় বিপুল পরিমাণ ডলফিনের বিচরণের তথ্য উঠে এসেছে এই জরিপে। 

জরিপ দল প্রধান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান বলেছেন, “বাংলাদেশের উপকূল ও নদী এলাকাগুলোতে এখনও ডলফিনের টিকে থাকার মতো পরিবেশ আছে। সরকার সুন্দরবনের মধ্যে তিনটি এলাকাকে ডলফিনের অভয়ারণ্য এলাকা ঘোষণা করেছে। আমরা সুন্দরবনের পানখালি এলাকার পাশের নদীতে ডলফিনের একটি বড় বসতি দেখেছি। এ ছাড়া হালদা, কর্ণফুলী ও ব্রহ্মপুত্র নদেও ডলফিন দেখতে পেয়েছেন তারা”। 

প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বন্য প্রাণীবিষয়ক সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডব্লিউসিএস) ২০০৬ সালে বাংলাদেশের ডলফিনের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ জরিপ করে। পরবর্তীতে সংস্থাটি আলাদাভাবে ইরাবতী ডলফিনের ওপর আরও একটি জরিপ চালায় যা একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করা হয়। সেই প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে বাংলাদেশে ইরাবতী ডলফিনের সংখ্যা বিশ্বে সর্বোচ্চ অর্থাৎ ৫ হাজার ৮০০টি। তবে এর আগে ধারণা করা হতো ভারতের দক্ষিণ উপকূলে সবচেয়ে বেশি ইরাবতী ডলফিনের আশ্রয়স্থল।