• বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫ রাত

পরিবহন ধর্মঘট: ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে বাধা, মুখে লেপ্টে দেয়া হলো পোড়া মোবিল

  • প্রকাশিত ০৩:৩৭ বিকেল অক্টোবর ২৮, ২০১৮
পরিবহন ধর্মঘট
গাড়িচালকের মুখে পোড়া মবিল লেপটে দিচ্ছে একজন আন্দোলনকারী। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

এ ঘটনার সাথে জড়িত দুজন শ্রমিককে চিহ্নিত করা হয়েছে

রাজধানীসহ সারাদেশে পরিবহন শ্রমিকরা পালন করছে ৪৮ ঘন্টার পরিবহন ধর্মঘট। শুধু নিজেরাই গণপরিবহন চালানো থেকে বিরত থেকে তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি, অভিযোগ এসেছে, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় সিএনজি-চালিত অটোরিকশাসহ যাত্রীদের বিকল্প যানবাহনও থামিয়ে দিচ্ছে তারা। এমন কি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের এবং বাইকারদের মুখে কালি দিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ এসেছে।

রোববার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ৪৮ ঘণ্টার এই পরিবহন ধর্মঘট।

ধর্মঘটের প্রথম দিনে পরিবহন শ্রমিকদের দেখা গিয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টেজোরজবরদস্তি করে যানবাহন থামিয়ে দিতে। এতে কর্মস্থলগামী লোকজন ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এমন কি অনেককে দেখা গিয়েছে ময়লার গাড়িতে করেও গন্তব্যস্থলে যেতে।

যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের যাত্রীদের টেনেহিঁচড়ে চালককে নামিয়ে চড়থাপ্পড় মারারও অভিযোগ এসেছে। মোটরসাইকেলের চালক, ব্যক্তিগত গাড়ির চালক কিংবা আরোহী কেউ বাদ যায় নি তাদের রোষানল থেকে। মুখে পোড়া মোবিল মেখে দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে ধর্মঘটের সমর্থনে রাস্তায় নামা শ্রমিকরা। এমনকি এ্যাম্বুলেন্সেও দেয়া হয়েছে পোড়া মবিল। 

আন্দোলনকারীদের রাস্তা অবরোধ করে রাখতে দেখা গেছে। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৯টা থেকে এই অবস্থা শুরু হয়। এসব ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হবার থেকে এ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

এদিকে রাজধানীর মিরপুর এলাকা গণপরিবহনশূন্য থাকায় অনেককেই সিএনজি চেপে গন্তব্যে রওয়ানা হতে দেখা যায়। কিন্তু কালশী মোড়ে আসতেইসেখানে অবস্থানরত শ্রমিকরা সিএনজি থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়।

ধর্মঘটের সমর্থনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক করম আলি বলেছেন, “এই ধর্মঘট শ্রমিক ফেডারেশন থেকে করা হচ্ছে সব শ্রমিকের দাবি-দাওয়া নিয়ে”। 

শনির আখড়ার ঘটনাটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এ ব্যাপারে জানি না। এই কর্মসূচী শ্রমিক ফেডারেশনের লোকেরা করেছে। আমরা ‘কর্মবিরতি’ করছি, যার ইচ্ছা হবে গাড়ি চালাবে, যার ইচ্ছা হবে না চালাবে না”। 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি রুস্তম আলি খান জানান, তার শ্রমিক ফেডারেশন এই কর্মবিরতি আন্দোলন ডেকেছে। শনির আখড়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যাপারে তিনি জেনেছেনও। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেছেন, “আমরা মালিক পক্ষ থেকে শ্রমিক ফেডারেশনকে এসব বন্ধ করতে বলেছি”।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলি জানান,  গতকাল প্রেসক্লাবে ব্রিফিং-এ কর্মসূচী চলাকালীন সময়ে কোনরকম অবরোধ বা পিকেটিং না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, আজকে শনিরআখড়ায় যে ঘটনা ঘটেছে তার সাথে জড়িত দুজন শ্রমিককে এরইমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “সেখানে কিছু শ্রমিক রাস্তায় অবস্থান করছিল। তাদের মধ্যেই দুজন এ ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনার পর শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা শনির আখড়ায় গিয়ে এ ঘটনার সাথে জড়িত দুইজন শ্রমিককে চিহ্নিত করে, এবং তাৎক্ষণিক তা বন্ধ করা হয়”। 

তিনি আরও জানান, এই দুজন শ্রমিককে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের অফিসে ঢোকা বন্ধ। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এ ব্যাপারে জানতে নৌপরিবহনমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খানকে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন ধরেন নি।

একইভাবে বাস-ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতির এনায়েত উল্লাহ্‌র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বাস-ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতির ফারুক তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন, এই মুহূর্তে কথা বলতে পারবেন না।

এর আগে শনিবার (২৭ অক্টোবর) শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সংসদ সদস্য ওয়াজিউদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক উছমান আলী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘সড়ক পরিবহন আইন -২০১৮’ পাস হয়েছে। এ আইনে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা ও পরিপন্থী উভয় ধারা রয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে গণ্য না করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইন পাস করা হয়েছে। আইনে সড়ক দুর্ঘটনা মামলায় অপরাধী হয়ে ফাঁসির ঝুঁকি রয়েছে। এমনই অনিশ্চিত ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পেশায় দায়িত্ব পালন করা শ্রমিকদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এর কারণে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কোনো আমাদের সামনে খোলা নেই”। 

এ আইনের সংশোধন ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে রোববার সকাল ৬টা থেকে দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।