• বুধবার, জুলাই ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৬ রাত

প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে প্রেমিকা

  • প্রকাশিত ১০:৩৫ সকাল অক্টোবর ২৯, ২০১৮
প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন
প্রতীকী ছবি।

ওমান প্রবাসী সজল দাসের সাথে প্রিয়াঙ্কা দাস এর সাথে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে

মৌলভীবাজারে স্ত্রীর অধিকার দাবী করে প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন প্রিয়াংকা দাস নামের এক নারী। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর গ্রামের প্রবাসী সজল দাসের বাড়ীতে গত শুক্রবার থেকে প্রিয়াঙ্কা অনশনে বসেন বলে জানিয়েছেন প্রিয়াঙ্কার মা পূর্ণা রানী দাস।

প্রিয়াঙ্কার পারিবারিক সূত্রে জানা যায় যে, ওমান প্রবাসী সজল দাস (২২) এর সাথে বৈরাগীরচক (বৃন্দাবনপুর) গ্রামের প্রদীপ দাসের মেয়ে প্রিয়াঙ্কা দাসের (১৯) দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য ওমান থেকে প্রেমিক সজল দাস দেশে ফিরে এসে প্রিয়াঙ্কার সাথে দেখা করে। পরবর্তীতে প্রিয়াঙ্কার অনিচ্ছাসত্ত্বেও তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং গোপনে মোবাইলে তা ধারণ করেন এবং অন্যদেরকেও দেখান। 

এই ঘটনায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে প্রিয়াঙ্কা ও তার পরিবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কাছে এ নিয়ে বিচার দেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দুই দফা সালিশ বিচার বসলেও সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। তবে, ১ম দফা সালিশ বিচারে সজলের মুঠোফোনে এই ঘটনা সংক্রান্ত আলামত পাওয়া গেলে তার মুঠোফোন জব্দ করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমেদ বাবু। 

এর পর থেকেই আত্মগোপনে যান অভিযুক্ত সজল দাস। এরপর ২য় দফা সালিশ বিচারেও অনুপস্থিত ছিলেন সজল। এর প্রতিবাদে প্রিয়াঙ্কা স্ত্রীর অধিকার দাবি করে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সজলের বাড়িতে অনশনে বসেন।

এ বিষয়ে পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, "ছেলেটি বিষয়টি প্রথম পর্যায়ে অস্বীকার করলেও মুঠোফোনের আলামতে তা প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় বৈঠকে ছেলে উপস্থিত না হওয়ায় সমাধান হয়নি।"

তবে সজল কোথায় আছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তার পরিবার থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানা নেই বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, সজল দাসের বাড়িতে অবস্থানকালে সজলের পরিবার প্রিয়াঙ্কার উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রিয়াঙ্কার মা। তিনি বলেন, "বাড়ি থেকে প্রিয়াঙ্কাকে তাড়াতে গত শুক্রবার রাতে দুই দফা ও শনিবার আরও এক দফা মারধর করা হয়।"

এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, "ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।"