• বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫ রাত

পাঁউরুটির ফাঁদে ফেলে প্রতারক ধরল পুলিশ

  • প্রকাশিত ০৭:৩৮ রাত অক্টোবর ২৯, ২০১৮
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

পুলিশ জানায়, ওই প্রতারকরা দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলো। নীলফমারি জেলা সদরের দারোয়ানী এলাকার নুর টিম্বার স’মিলের মালিক মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে তারা প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

নীলফামারীতে পাঁউরুটি আর টিস্যু পেপারের ফাঁদে ফেলে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। 

গতকাল রবিবার রাতে সৈয়দপুর শহর থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে মামলা করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে সোর্পদ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন-খুলনার আড়ংঘাটা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত কালু খানের ছেলে নাজির খান (৫০), তার ছোট ভাই শহিদ খান (৪৫), সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া গ্রামের মৃত মোক্তার শেখের ছেলে সুলতান শেখ (৫৫)। 

পুলিশ জানায়, ওই প্রতারকরা দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলো। নীলফমারি জেলা সদরের দারোয়ানী এলাকার নুর টিম্বার স’মিলের মালিক মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে তারা প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

নুরুল ইসলাম বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ওই প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তারে ওঁৎ পাতে। পরে রবিবার সন্ধ্যায় ডিবির ফাঁদে আটক হন তারা। তবে প্রতারক চক্রের দুই সদস্য খুলনা জেলার দৌলতপুর উপজেলার মোয়াজ্জেম শেখের ছেলে জনি শেখ (৩৬) ও গ্রেপ্তার হওয়া সুলতান শেখের ছোট ভাই সিদ্দিক শেখ (৪৬) পালিয়ে যান।

নীলফামারী ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজালুল ইসলাম বলেন, নাজির খান এবং সিদ্দিক শেখ প্রথমে নুরুল ইসলামের স’মিলে যান। নাজির নিজেকে একটি জুতা তৈরির ডাইস রপ্তানিকারকের ব্যবস্থাপক বলে পরিচয় দেন। তাদের বেশ কিছু ডাইস ইতালি এবং কানাডায় রপ্তানি করবেন বলে জানান। এজন্য তার প্রচুর কাঠের প্রয়োজন উল্লেখ করেন তারা।

সে অনুযায়ী, নুরুল ইসলামকে সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়ার একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাইস রপ্তানিকারক হিসেবে জনি শেখের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সুলতান শেখ নিজেকে শংকর আগারওয়াল নামে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। 

ওই বাসায় কৌশলে নুরুল ইসলামের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তাকে জুয়া খেলার প্রস্তাব দেন প্রতারকরা। নুরুল ইসলাম তাস চেনেন না বললেও তারা তাকে তাস খেলার প্রশিক্ষণ দেন। ওই জুয়ায় নুরুল ইসলামের সঙ্গে থাকা ৩৬ হাজার টাকা জিতে নেওয়ার পর মুখে মুখে জুয়ায় বাজি ধরা শুরু করেন ভারতীয় নাগরিক সেজে থাকা সুলতান শেখ। 

এক পর্যায়ে নুরুল ইসলাম জুয়ায় কোটি টাকা জিতে গেলে, সুলতান শেখ টাকা দেখাতে বলেন। এক কোটি টাকা দেখালে সুলতান শেখ তাদের এক কোটি টাকা দেবেন বলে জানান। প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা এসময় টাকা দিতে চান। শেষে তারা নুরুল ইসলামকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে বলেন। 

ওই পাঁচ লাখ টাকার পাশাপাশি নুরুলকে ডাইস সরবরাহের জন্য অগ্রিম ছয় লাখ এবং কোটি টাকার লভ্যাংশ দেওয়ার লোভ দেখান। তবে তা দিতে দেরি হওয়ায় তাকে বার বার চাপ দিতে থাকেন প্রতারক চক্রের সদস্যরা।

এ পর্যায়ে পুলিশের শরণাপন্ন হন নুরুল ইসলাম। পরে পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী নুরুল ইসলাম টাকার আকারে একটি পাঁউরুটি কাগজে পেঁচিয়ে ও দুই পকেটে টিস্যু পেপার ভর্তি করে তাদের বলা স্থানে গেলে ওঁৎ পেতে থাকা ডিবি পুলিশ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে। 

এ বিষয়ে নীলফমারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ বি এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রতারক চক্রের সক্রিয় তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন থানায় তাদের নামে মামলা রয়েছে।’ 

নীলফমারীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অভিনব পন্থায় প্রতারণা করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের কাছে ওই প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে।