• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৩৭ বিকেল

ইলিশের প্রজনন মৌসুম শেষ, জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা

  • প্রকাশিত ১২:৪২ দুপুর অক্টোবর ৩১, ২০১৮
ইলিশ
ফাইল ছবি।

প্রজনন মৌসুম শেষ হওয়ার তিনদিনের মাথায় দেশের সব নদ-নদীতে বৃহস্পতিবার থেকে (চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন) আট মাস জাটকা (২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দৈর্ঘের ইলিশ) ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে

গত ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ছিল ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। ইলিশের প্রজনন মৌসুম শেষ হওয়ার পর এখন মা ইলিশের ডিম থেকে উৎপাদিত জাটকা (ছোট সাইজের ইলিশ) রক্ষা করার সময়। আর তাইপ্রজনন মৌসুম শেষ হওয়ার তিনদিনের মাথায় দেশের সব নদ-নদীতে বৃহস্পতিবার থেকে (চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন) আট মাস জাটকা (২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দৈর্ঘের ইলিশ) ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই আট মাস জাটকা ধরা, বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহন সম্পূর্ণরুপে বন্ধ থাকবে। তবে বড় আকারের ইলিশ ধরতে কোন বাঁধা নেই।

এদিকে জেলেদের দাবি, সাগরে জাল ফেললে ছোট-বড় প্রায় সব সাইজের ইলিশ ধরা পড়ে। জালে মাছ বাঁধার পর আর ফেলে দেয়া হয় না। এ অবস্থায় ছোট ফাঁসের জাল উৎপাদন বন্ধের দাবি উঠেছে। একই সাথে জেলেরা জাটকা ধরা বন্ধ থাকাকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় সাহায্যের দাবিও জানিয়েছেন।

মৎস্য বিভাগ জানায়,সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এই সময়ে জাটকা ধরা বন্ধ রাখতে যে সব জেলেরা সাগরে গিয়ে ইলিশ আহরণ করে তাদেরকে খাদ্য সহয়তা দেবে সরকার। জাটকা ধরা বন্ধ করা গেলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে মৎস্য বিভাগ আশা করছে।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী জানান, মা ইলিশ ডিম ছাড়ার পর তা পর্যায়ক্রমে রেনু, জাটকা এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ ইলিশে পরিণত হয়। ডিম থেকে রেণু তৈরি হওয়ার পর পরিপূর্ণ ইলিশে পরিণত হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। তাই ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আটক মাস দেশের সব নদ-নদীতে জাটকা ধরা বন্ধ থাকবে। জাটকা রক্ষা করা গেলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন পাঁচ লাখ মেট্রিকটনের বেশি হবে বলে তার আশাবাদ।

এই মৎস্য কর্মকর্তা ইউএনবি'কে বলেন, জাটকা ধরা বন্ধ রাখতে জেলেদেরকে খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার। জনপ্রতি প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল পাবে জেলেরা। জাটকা রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা এবং মানুষকে আরও বেশি সচেতন করার কথা জানালেন ওই মৎস্য কর্মকর্তা।

এদিকে প্রজনন মৌসুম শেষ হওয়ার পর বাগেরহাটের কেবি বাজার মৎস্য পাইকারি আড়তে গিয়ে ইলিশের সরবারহ দেখা গেছে। পিকআপ এবং মোটরসাইকেলযোগে ইলিশ আসছে আড়তে। ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের ইলিশের দেখা গেছে। ক্রেতাদেরও উপচে পড়া ভিড়। ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ওজনের প্রতিকেজি ইলিশ ৩৫০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যে সব জেলেরা ইলিশ ধরতে তাদের ট্রলার নিয়ে সোমবার ভোরে সাগরে গেছে তাদের ফিরে আসতে আরো এক সপ্তাহ লাগবে বলে জেলে সুত্র জানায়।