• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

গুলি রেখে অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক!

  • প্রকাশিত ০৭:৩৬ রাত অক্টোবর ৩১, ২০১৮
কারাবন্দি
প্রতীকী ছবি

"মঙ্গলবার দুপুরে সদরঘাট কালীবাড়ি মোড়ে সদরঘাট থানা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালনের সময় রানা তাদের বলেন, সন্দ্বীপ হোটেলে অস্ত্র ও গুলিসহ একজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছে"

চট্টগ্রামে মিথ্যা খবর দিয়ে আরেকজনকে ফাঁসাতে গিয়ে অভিযোগকারী নিজেই পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। নগরীর উত্তর নালাপাড়া এলাকার সন্দ্বীপ আবাসিক হোটেলে আগে থেকে গুলি রেখে অন্যজনকে ফাঁসাতে গিয়ে মো. আলী হাসান রানা নামের এক ব্যক্তি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলে জানায় বিডি নিউজ।

এ বিষয়ে সদরঘাট থানার ওসি নেজাম উদ্দিন জানান, "মঙ্গলবার দুপুরে সদরঘাট কালীবাড়ি মোড়ে সদরঘাট থানা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালনের সময় রানা তাদের বলেন, সন্দ্বীপ হোটেলে অস্ত্র ও গুলিসহ একজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছে।"

ঐ খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঐ হোটেলের ১১৮ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত দীপক চন্দ্র দাশ নামে এক ব্যক্তিকে তল্লাশি করে। তবে, তার কাছে কিছু না পাওয়ায় রানাকে সেখানে তলব করে পুলিশ। পরে রানা এসে দেয়ালের ওপর থেকে টেপ মোড়ানো তিনটি গুলি বের করে দেয়। তবে, পুলিশের ভাষ্যমতে, এমন একটি জায়গায় রাখা গুলিগুলো কোনোভাবেই রানার চোখে পড়ার কথা নয়।

ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, "সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে যে, দীপককে ফাঁসানোর জন্য সে নিজেই সেখানে গুলি রেখেছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে ফিশিং বোটের মালিক দীপক চন্দ্র দাসের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়। ব্যবসার প্রয়োজনে, দীপক সন্দ্বীপ আবাসিক হোটেলের ১১৮ নম্বর কক্ষ তিনি নিজের অফিস ও বাসা হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

উল্লেখ্য, চার বছর আগে চট্টগ্রামের মোগলটুলি এলাকার বাসিন্দা রানার সঙ্গে পরিচয় হয় দীপকের। এরপর দুই বছর পর মালবাহী একটি জাহাজের ধাক্কায় দীপকের একটি ফিশিং বোট ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ ব্যাপারে দীপককে ক্ষতিপূরন আদায়ে বিশেষ সাহায্য করেন রানা। এরপর থেকেই রানা বিভিন্ন সময়ে দীপকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু করে।

দীপক বলেন, "কিছু দিন আগে আমি টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেই। এরপর সে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া ‍শুরু করে। তাছাড়া হামলা ও ট্রলার থেকে জাল ছিনতাইয়ের অভিযোগে কিছু লোকের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছিলাম। রানা তাদের পক্ষ নিয়ে আমাকে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিচ্ছিল। এজন্য কোতোয়ালি থানায় আমি একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছি।"

এদিকে, নিজে গুলি রেখে অন্যকে ফাঁসানোর অভিযোগে রানার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।