• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২০ রাত

সিডরে ভেসে যাওয়ার ১১ বছর পর বাড়িতে ফিরলেন নিখোঁজ শহিদুল

  • প্রকাশিত ০১:৪৮ দুপুর নভেম্বর ১৯, ২০১৮
জেলে শহিদুল মোল্লা
ঘূর্ণিঝড় সিডরে সাগরে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ১১ বছর পর জেলে শহিদুল মোল্লা (৪৮) বাড়িতে ফিরেছেন। ছবি: ইউএনবি।

ঘূর্ণিঝড় সিডরে সরকারিভাবে নিখোঁজের তালিকায় শহিদুলের নাম রয়েছে

ঘূর্ণিঝড় সিডরে সাগরে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ১১ বছর পর জেলে শহিদুল মোল্লা (৪৮) বাড়িতে ফিরেছেন। নিখোঁজের এত বছর পর প্রিয়জনকে কাছে পেয়ে তার স্বজনরা খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেছেন।  পরিবার শহিদুলের বেঁচে থাকার আশা তার পরিবারের লোকজন বহু আগেই ছেড়ে দিয়েছিলেন।

সূত্র জানায়, শহিদুলের বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রাম। তিনি ওই গ্রামের ফুলমিয়া মোল্লার ছেলে। ঘূর্ণিঝড় সিডরে সরকারিভাবে নিখোঁজের তালিকায় শহিদুলের নাম রয়েছে।

জানা যায়, ছোট ভগ্নিপতি পান্না ফরাজীর নৌকা নিয়ে শহিদুল মাছ ধরতে গিয়েছিল সাগরে। ওই নৌকায়  শহিদুলের সঙ্গি মাসুম ছিদ্দিক এবং সেলিম ছিল। আর মৎস্য ব্যবসায়ী ইউনুচ শিকদারের নৌকায় ছিলেন শহিদুলের বাবা ফুলমিয়া মোল্লা।  ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে সিডরে জলোচ্ছাসে ভেসে তারা সবাই নিখোঁজ হয়। সিডরের ১১ বছর পর শহিদুল বাড়িতে ফিরে এলেও তার বাবাসহ অপর দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

তবে, শহিদুল বাড়ি ফিরলেও তিনি অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং তার কথাবার্তায় এলোমেলো ভাব রয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। 

শহিদুলের বড় বোন মঞ্জু বেগম বলেন, স্থানীয় আমড়াগাছিয়া বাজারে শহিদুল নামে এক পাগল ঘোরাফেরা করছে এমন খবর পাওয়ার পর সে ১২ নভেম্বর বাজারে ছুটে যায়। গিয়ে দেখেন বাসস্ট্যান্ড যাত্রী ছাউনিতে ঘুমিয়ে আছে শহিদুল। তার কপালের বামপাশে কাটা দাগ, হাতের আঙ্গুলে বড়সি ঢুকে ক্ষত হয়েছিল, এসবের মিল দেখেই সনাক্ত করেন ভাইকে। সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে এনে তার পাগলবেশে থাকা লম্বা চুল, দাঁড়ি কেটে সিডরে হারিয়ে যাওয়া শহিদুলকে আবিষ্কার করেন।