• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৯ রাত

আদালত-পুলিশকে অবগত না করেই মিলছে ‘গ্রীভিয়াস’ ডাক্তারী সনদ

  • প্রকাশিত ১০:৫৪ সকাল নভেম্বর ২৪, ২০১৮
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ

‘গ্রীভিয়াস’ সনদপত্র সহজলভ্য হওয়ায় বাড়ছে ভুয়া মামলার সংখ্যা

সিরাজগঞ্জে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে মারামারি বা সংঘর্ষের ঘটনায় জখমী রোগীদের সরবরাহকৃত ‘গ্রীভিয়াস’ নামের ডাক্তারী সনদপত্র।

আদালত বা থানা-পুলিশকে না জানিয়েই জেলা সদরের সরকারী হাসপাতাল থেকে সাধারন জখমী রোগীদের হাতে ‘গ্রীভিয়াস’ বা গুরতর জখমের সনদপত্র দেয়া হচ্ছে। ৩২৬ ধারা সংযোজন করে আদারস্ সেকশনের মামলা জটিল করতে বা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এসব গ্রীভিয়াস বা গুরতর ডাক্তারী সনদ সংগ্রহ করা হচ্ছে। রোগী বা তাদের স্বজনদের প্ররোচনায় অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে সদর হাসপাতালের কতিপয় অসাধু চিকিৎসকদের ভুয়া ‘গ্রীভিয়াস’ সনদ প্রদানের প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পুলিশকে অবগত না করে শুধু কাগজে-কলমে হাসপাতালে ভর্তি দেখিয়ে জরুরী বিভাগ থেকে ‘গ্রীভিয়াস’ সনদপত্র দেবার শতাধিক অভিযোগও রয়েছে।

সদর হাসপাতালে ‘গ্রীভিয়াস’ সনদপত্র সহজলভ্য হওয়ায় সিরাজগঞ্জে ভুয়া ও মিথ্যে মামলার সংখ্যাও বাড়ছে, অন্যদিকে মামলা বিচারে উঠার আগেই অধিকাংশই সামাজিকভাবে মিমাংশা হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তারাও বিরম্বনায় পড়ছেন। মামলার পরপরই সামাজিক মিমাংশার কারনে বাদীকে দিয়ে অভিযোগ উত্তোলনে কৌশলে হলফনামাও করানো হচ্ছে।আদারস্ সেকশনের অধিকাংশ মামলাগুলো আদালতে বিচারে না গিয়ে বরং সামাজিকভাবে তা মিমাংশা হওয়ায় জখমী রোগীদের ভুয়া সনদ প্রদানের বিষয়টিও আদালতে প্রমান হবার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। যে কারনে অসাধু চিকিৎসকরা সহজেই পার পেয়ে দিনে দিনে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

পূর্ববতী সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মঞ্জুর রহমান ভুয়া ডাক্তারী সনদ প্রদান ও চিকিৎসকদের দমনে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের নির্দেশ ও পরিপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আদালত বা থানা পুলিশের চাহিদা ছাড়া কোন ডাক্তারী সনদ প্রদান করা যাবে না মর্মে চিকিৎসকদের নির্দেশনা দেন। যে কোন জখমী রোগীদের ডাক্তারী সনদ প্রদানের আগে হাসপাতালে ভর্তি নিশ্চিতকরন, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করন এবং হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসকের বোর্ড গঠন করে সনদ পত্রে তাদের স্বাক্ষর প্রদানের নিয়ম করে দেন। কিছুদিন সেটি মানা হলেও পরে তা আগের মতই।

জেলা সদরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত বেশ ক’জন অসাধু ওয়ার্ডবয়, ব্রাদার্স ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই আসছে। সরকারী এ হাসপাতালের অজ্ঞাত পরিচয়ের দু’জন অসহায় নারী রোগীকে যমুনার পাড়ে গত ২৫ অক্টোবর ফেলে দেবার ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীরা এসব ডাক্তারী সনদ বাণিজ্যের বিষয়টি অবগত হন। তারা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক রমেশ চন্দ্র সাহাকে এ বিষয়টি জানান। এরপর গোপনে অনুসন্ধান করে প্রমান পেয়ে নোটিশ করে রেজুলেশনের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) জরুরী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সতর্ক করেন তিনি।

তবে অর্থের বিনমিয়ে ভুয়া গ্রীভিয়াস সনদ সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করে সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ ফয়সাল আহম্মেদ, ডাঃ শামিমুর রহমান ও ডাঃ রোকনউজ্জজামান বলেন, “দলীয় লোকজনের কারনে বাধ্য হয়ে রোগীদের ডাক্তারী সনদ দিতে হয়। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোন আইন নেই যে রোগীর হাতে জখমের সনদ দেয়া যাবে না। পুলিশের চাহিদার বিষয়টি মানতে গেলে সেখানে পুলিশের বানিজ্যেরও সুযোগ থাকে। আমরাও পুলিশের বিরুদ্ধে প্রায়ই এ ধরনের অভিযোগ পেয়েই রোগীর হাতে সরাসরি সনদ দিচ্ছি”।