• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩ রাত

যৌন হয়রানির অভিযোগে নাটোরের সেই ডিসির ওএসডি

  • প্রকাশিত ১০:০৩ রাত নভেম্বর ২৬, ২০১৮
natore dc
নাটোরের জেলা প্রশাসক গোলামুর রহমান। ছবি- সংগৃহীত

বেশ কিছুদিন থেকেই নাটোরের এক নারী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ফেইসবুকের মাধ্যমে অশোভন আচরণ, খারাপ প্রস্তাব দেওয়া এবং প্রশাসনের কর্মচারীদের মারপিটসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে গোলামুর রহমানের বিরুদ্ধে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তে নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলামুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। 

আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। 

অপরদিকে গোলামুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব শাহরিয়াজকে। এ আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি করেন জনপ্রশাসন বিভাগের উপসচিব দেওয়ান মহিবুবুর রহমান।

বেশ কিছুদিন থেকেই নাটোরের এক নারী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ফেইসবুকের মাধ্যমে অশোভন আচরণ, খারাপ প্রস্তাব দেওয়া এবং প্রশাসনের কর্মচারীদের মারপিটসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে গোলামুর রহমানের বিরুদ্ধে।

এরই ধারাবাহিকতায় ওই নারী ম্যাজিস্ট্রেট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ২৪ অক্টোবর আবেদন করেন। আবেদনে তিনি দাবি করেন, তিনি ৩৪তম বিসিএস এর একজন কর্মকর্তা। গত ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারী থেকে তিনি নাটোরে কর্মরত। জেলা প্রশাসক গোলামুর রহমান চলতি বছরের ৯ অক্টোবর নাটোরে যোগ দেন। এর পর পরই তিনি তাকে সাধারণ শাখা ও ট্রেজারি শাখা থেকে সংস্থাপন শাখায় বদলি করেন। পরে সংস্থাপন শাখায় রক্ষিত সব কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি নিয়ে ডিসি তাকে সার্কিট হাউসে অথবা ডাক বাংলায় একান্তে সাক্ষাৎ করতে বলেন। ওই স্থানগুলোতে গোলামুর রহমান একাই থাকেন। 

এ ছাড়া যোগদানের তিনদিন পর থেকেই ডিসি তার ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে যুক্ত হয়ে কথা বলতে থাকেন। প্রায়ই জেলা প্রশাসক তাকে গভীর রাতে ম্যাসেজ পাঠাতেন। কিন্তু উত্তর না দিলে পরের দিন সকালে কারণ ব্যাখ্যা করতে বলতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক তাকে চরম বাজে ও আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। 

পরে ২২ অক্টোবর জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় ওই নারী ম্যাজিস্ট্রেটে খুলনায় বদলি করলে তাও বাতিল করতে জেলা প্রশাসক চেষ্টা করেন। এমন অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতার দাবি করে তিনি এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের আবেদন করেন। এরপরই তিনি নাটোর থেকে বদলি হয়ে যান। 

সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে নাটোরের জেলা প্রশাসনসহ সর্বস্তরে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে গুঞ্জন শুরু হয়। সর্বশেষ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।