• বুধবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭ রাত

ভিকারুননিসা'র সব শাখার কার্যক্রম স্থগিত

  • প্রকাশিত ১২:৫৩ দুপুর ডিসেম্বর ৫, ২০১৮
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিক্ষোভরত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন জড়িত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে

ভিকারুননিসা'র নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন জড়িত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। 

আত্মহত্যার ঘটনায় জড়িত হিসেবে চিহ্নিত হওয়া প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নাজনিন ফেরদৌস, শাখা প্রধান জিন্নাত আরা ও শিক্ষক হাসনা হেনাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  সেই সাথে এমপিও'র তালিকা থেকে এই তিন শিক্ষককে বাতিল করা হয়েছে। 

এমপিও ভুক্তির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আওতায় কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মীদের  সরকারি  মাসিক বেতনের কাঠামোতে নিয়ে আসা হয়। এমপিও শব্দটির পূর্ণ অর্থ হচ্ছে মান্থলি পে অর্ডার। এমপিও ভুক্তির মাধ্যমে বেসরকারি পর্যায়ের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় বিভিন্ন ধরনের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং শিক্ষক-কর্মীদের মাসিক বেতন কার্যকর করা হয়। এমপিও অন্তর্ভূক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা সরকারী বেতন-ভাতাদির সুবিধা পান না ।

এছাড়া, অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সব শাখার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার বিকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী (১৫) শিক্ষকের ‘অপমান’ সইতে না পেরে রাজধানীর আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠে।  

পরিবারের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পুলিশ ফাঁড়ির সাব ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া জানান, রবিবার ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে তার কাছে মোবাইল ফোন পান শিক্ষকরা। পরে সোমবার স্কুলের অধ্যক্ষ ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে স্কুলে ডেকে পাঠান। 


আরও পড়ুন... ভিকারুননিসা শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, অপদস্থ অধ্যক্ষ


নিহতের বাবা আরও জানান, তার মেয়ে পরীক্ষায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকল করেছে অভিযোগ করে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষিকা নাজনিন ফেরদৌস ও অন্য শিক্ষকেরা নিহত শিক্ষার্থীটিকে তার মা-বাবার উপস্থিতিতেই অপমান করে এবং তাদের মঙ্গলবারের মধ্যে স্কুল থেকে ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে যেতে বলা হয়।

তিনি আরও বলেন, "আমার মেয়ে বারবার ক্ষমা চেয়ে আবেদন জানালেও শিক্ষকরা তার কথা না শুনে উল্টো তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেন।"

পরবর্তীতে তাদের (বাবা-মা) বাসায় যাওয়ার পূর্বেই সে দ্রুত বাসায় গিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে।


আরও পড়ুন... হাইকোর্ট: ভিকারুননিসা শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা হৃদয় বিদারক


বাসায় মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত তাকে নামিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আত্মহত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।


আরও পড়ুন... ভিকারুননিসা ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত কমিটি

আরও পড়ুন... ভিকারুননিসা ছাত্রীর আত্মহত্যা: ক্যাম্পাসের সামনে বিক্ষোভ

আরও পড়ুন... ভিকারুননিসা শিক্ষার্থীর 'আত্মহত্যার' প্রতিবাদে ২য় দিনের বিক্ষোভ চলছে