• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১৩ বিকেল

পুলিশের ওপর হামলা: সিরাজগঞ্জে ১৭৩ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

  • প্রকাশিত ০৮:২০ রাত ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮
সিরাজগঞ্জ

ঘটনার পর নাহিদ রায়হান দিগন্ত, ওমর ফারুক ও ফরিদুল ইসলাম নামে ছাত্রদলের ৩ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও মারপিটের ঘটনায় সিরাজগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১৭৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে সদর থানায় বাদি হয়ে মামলাটি করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) বদরুদ্দোজা জিমেল। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম শনিবার সন্ধ্যায় জানান, পুলিশের দায়ের করা মামলায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান লেবু সহ নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, আব্দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ সুইট, যুবদল সভাপতি মির্জা আব্দুল জব্বার বাবু, স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রাজেশ, সহ-সভাপতি আলামিন খান এবং জেলা ছাত্রদল সভাপতি জুনায়েত আহম্মেদ সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ সহ মোট ১৭৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

এদিকে, ঘটনার পর নাহিদ রায়হান দিগন্ত, ওমর ফারুক ও ফরিদুল ইসলাম নামে ছাত্রদলের ৩ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের এ মামলায়ও সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরকে খুঁজছে পুলিশ। 

শুক্রবারের ঘটনায় পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়। 

বিবৃতিতে জেলা পুলিশ মিডিয়া সেলের সভাপতি পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ জানান, শুক্রবার সন্ধায় শহরের ধানবান্ধি এলাকায় পুলিশের সাথে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি নেত্রী রুমানা মাহমুদের পক্ষে জেলা বিএনপি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা একপেশে, অতিরঞ্জিত ও মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশল মাত্র। প্রকৃতপক্ষে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী রুমানা মাহমুদের বাড়ি থেকে অতর্কিত টহলরত পুলিশের উপর হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে আট রাউন্ড টিয়ারসেল, ৪৭ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ এবং ১০ রাউন্ড সীসা কার্তুজ ফাঁকা ফায়ার করলে বিশৃঙ্খলাকারীরা সরে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ইট-পাটকেলের আঘাতে সদর থানার এস.আই ফারুক আহম্মেদ এবং কনস্টেবল রব্বানী, রেজাউল ও নাজমুলসহ ৪ জন আহত হন। পুলিশের একটি পিকআপের সামনের গ্লাসও ভাংচুর করা হয়। 

প্রসঙ্গত, শহরের ইলিয়ট ব্রীজ, ইসলামিয়া কলেজ রোড ও ঢুলিপাড়া মোড়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে ৮ রাউন্ড টিয়ারসেল  এবং  ৫৭ রাউন্ড রাবার ও সিসা বুলেট ছোড়ে। 

পুলিশের বুলেটের আঘাতে সিরাজগঞ্জ-২ (কামারখন্দ ও সদরের একাংশ) আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি বেগম রোমানা মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ সুইট, ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ, যুবদল নেতা রাজু, আব্দুল্লাহ, ছাত্রদল কর্মী নাহিদ রায়হান দিগন্ত, ওমর ফারুক ও ফরিদুলসহ ২০ জন আহত হন বলে জেলা বিএনপির দাবি। তবে, সংঘর্ষে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছোঁড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত এবং একটি পিকআপভ্যান ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয় বলে পুলিশের দাবি।