• বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪০ রাত

সুনামগঞ্জে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

  • প্রকাশিত ০৪:৫৭ বিকেল ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮
শাহীনুর পাশা চৌধুরী
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী শাহীনুর পাশা চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ান জারি করেছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

২০০৫ সালের ২০ জুলাই সুনামগঞ্জ-৩ আসনে উপনির্বাচনে শাহীনুর পাশা চৌধুরী চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আবাসন ব্যবসায় প্রতারণার অভিযোগে করা এক মামলায় মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) এ পরোয়ানা জারি করেন সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মাহফুজুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে পাশার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, “শাহীনুর পাশা সিলেট নগরীতে বসবাস করায় গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে সিলেট কোতোয়ালী থানা ও তার নিজ এলাকা সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পাঠানো হয়েছে।”

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী রাজধানীর বনানীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী তালুকদার একজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী। প্রতারণার অভিযোগে গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি শাহীনুর পাশা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বাদীর অভিযোগ, শাহীনুর পাশার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে তার পরিচয় হয়। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে তাঁর ‘মাতৃভূমি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড’ নামে একটি আবাসন প্রকল্প আছে জানিয়ে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মোহাম্মদ আলী তালুকদারকে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হওয়ার প্রস্তাব দেন পাশা।

সেই অনুযায়ী ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর থেকে মোহাম্মদ আলী কয়েক দফায় ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন পাশাকে। কিন্তু, শাহীনুর পাশা তাঁকে না জানিয়েই প্রকল্পটি বিক্রি করে দেন। এরপর বারবার যোগাযোগ করা হলেও শাহীনুর তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেননি। চলতি বছর শাহীনুর টাকা পরিশোধের জন্য ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের একটি চেকে পাঁচ লাখ টাকা দেন। একই ব্যাংকের ভিন্ন ভিন্ন তারিখে আরও তিনটি চেকসহ মোট ২০ লাখ টাকার চেক দেন। কিন্তু এসব চেক নগদায়নের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান শাখায় জমা দিলে ডিজঅনার হয়। এরপর শাহীনুরের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি জানান, ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকার লভ্যাংশসহ ফেরত দেওয়া হবে। গত ২২ অক্টোবর শাহীনুর পাশা এই মামলার এক সাক্ষীর উপস্থিতিতে পাওনা টাকার কথা অস্বীকার করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে শাহীনুর পাশার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও মোহাম্মদ আলীর সাথে পাশার লেনদেন থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২০ জুলাই সুনামগঞ্জ-৩ আসনে উপনির্বাচনে শাহীনুর পাশা চৌধুরী চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ মান্নানের সঙ্গে হেরে যান। এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মনোনীত হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচন করছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোটের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।