• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২০ সকাল

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

  • প্রকাশিত ০৯:১৮ রাত ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮
রাজশাহী
প্রতীকী ছবি

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবিকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তোলেন

গণসংযোগে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর বাগমারায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু হেনা নেতাকর্মীদের নিয়ে বাগমারার গোয়ালকান্দি বাজারে গণসংযোগে গেলে স্থানীয় জনগণ তাদের বাধা দেয়। বাধার মুখে সেখান থেকে ফিরে গিয়ে হামিরকুৎসা বাজারে যান আবু হেনা।

হামিরকুৎসায় গণসংযোগ শুরু করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আবু হেনার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবিকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। 

উল্লেখ্য, আবু হেনা সংসদ সদস্য থাকাকালে সেখানে জেএমবির টর্চার সেল ছিল। তার বিরুদ্ধে জঙ্গি মদদের অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর।

তবে বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে ক্ষিপ্ত হন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের সমর্থকরা প্রতিপক্ষের অফিস ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পৌঁছালে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বিএনপি প্রার্থী।

এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক সাংসদ আবু হেনাকে নিয়ে উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে নির্বাচনি গণসংযোগের সময় বাধা দেওয়া হয়। সেখান থেকে ফিলে হামিরকুৎসা বাজারে গণসংযোগ করতে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। তারা লাঠিসোটা নিয়ে বিএনপির প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এতে তাদের ৮-১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।

বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মতিউর রহমান টুকু বলেন, জঙ্গিদের হাতে স্বজন হারা ও নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা আবু হেনাকে গণসংযোগে বাধা দেয়। তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায় এবং আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করে। জনবিচ্ছিন্ন আবু হেনাকে নিয়ে ভোটারদের সাড়া না পেয়ে বাগমারার বিএনপির নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে তার আগে উভয়পক্ষের নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।